সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নগর শাখার সাবেক এক নেতা। আজ বুধবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন এনসিপি নগরের সহসাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষের জেরে ১৪ মে সন্ধ্যা থেকে ১৫ মে রাত পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হুজ্জাতুল ইসলামের ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর অডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও প্রচার করা হয়েছে। তাঁকে ‘গুপ্ত ছাত্রলীগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ১৬ মে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির পরিচয় শনাক্ত, ট্র্যাকিং এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিকৃত ছবি ও অডিও অপসারণের আবেদন জানানো হয়েছে।

মামলার বাদী হুজ্জাতুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ই–মেইল হাসান নামের একটি ফেসবুক আইডি ও একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে এনসিপির কিছু নেতা–কর্মী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সুনির্দিষ্টভাবে আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দিয়েছি। পরে আদালত ই–মেইল হাসান আইডির পরিচয় শনাক্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

হুজ্জাতুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমি নিজেও চাই, তদন্তে প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বেরিয়ে আসুক।’

এক প্রশ্নের জবাবে হুজ্জাতুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে তিনি পদত্যাগ করলেও দাপ্তরিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় এখনো তিনি পদে রয়েছেন।

এনসিপি চট্টগ্রাম নগর কমিটির প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় বলেন, ‘তিনি নিজেকে পদত্যাগী নেতা বলছেন, আবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করেননি। চট্টগ্রাম এনসিপির কোনো কার্যক্রমে তিনি আসেন না। কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা কথা বলেছি। তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’