ঢাকার সাভারে সদ্য গঠিত পৌর ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহত রিয়া মণির (২১) মা–বাবা বিদেশে থাকেন। বিয়ের আগে তিনি সাভারের সোবহানবাগ এলাকায় মামা সাদ্দাম হোসেনের বাসায় থাকতেন। গতকাল সোমবার দুপুরে সাভারের ছায়াবীথি মহল্লার একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা-পুলিশ।

অভিযুক্ত রনি চৌধুরী (২২) কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকার ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাভারের পৌর এলাকা ছায়াবীথি মহল্লায় বসবাস করছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে রিয়া মণিকে বিয়ে করেন রনি চৌধুরী। এরপর তাঁরা ছায়াবীথি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রিয়া মণির মামা সাদ্দাম হোসেন জানতে পারেন রিয়া মণি মারা গেছেন। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। তিনি রিয়া মণির স্বামী রনি চৌধুরীকে আশপাশে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি সাভার মডেল থানা-পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজার তালা ভেঙে খাটের ওপর থেকে রিয়া মণির মরদেহ উদ্ধার করে।

সাভার পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হিমেল খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গতকাল রাতেই ঘটনাটি জানার পর বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাৎক্ষণিকভাবে কমিটির কয়েকজন সদস্যকে রনি চৌধুরীর বাসায় পাঠানো হয়। খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পেরেছেন, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি পারিবারিক হলেও কোনো ধরনের অন্যায়কে ছাত্রদল প্রশ্রয় দেবে না। তাই দলীয় পদক্ষেপ হিসেবে ইতিমধ্যে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রনি চৌধুরীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে নিহত ব্যক্তির মামা সাদ্দাম হোসেন গতকাল দিবাগত রাতে মামলা করেছেন। রনি চৌধুরীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।