ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা, ছেলে ও মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজন এবং প্রাইভেট কারের চালক নিহত হয়েছেন। একটি প্রাইভেট কার দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম ফ্লাইওভার পার হওয়ার আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বেগম (৫০), মেয়ে আয়শা খাতুন (২৮) ও ছেলে মো. আরিফ ইসলাম (২৫)। নিহত প্রাইভেট কারের চালক জাহিদ হোসেনের (৩২) বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে।

দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলামের আরেক ছেলে এবং তাঁর দুই নাতি গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাঁদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি প্রাইভেট কার মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছে একই লেনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেট কারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই নারী ও দুই পুরুষ নিহত হন। আহত হন এক শিশুসহ তিনজন আরোহী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়।

শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কম দৃশ্যমানতা কিংবা দ্রুতগতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিতে পারেন।