আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আমের বাজারে আম উঠতে শুরু করেছে। দুই দিন ধরে জেলার বিখ্যাত ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ, লক্ষণভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম দেশের বৃহত্তম এ বাজারে দেখা যাচ্ছে। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি; আর দাম নিয়ে অসন্তোষ আছে অনেক আমচাষির।

আজ সোমবার সকালে কানসাট আমের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শিবগঞ্জ-সোনামসজিদ সড়কে যানজটের পরিচিত দৃশ্য। বাজারমুখী ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ভটভটিতে বোঝাই করে আনা হচ্ছে আম।

বাজারসংলগ্ন ভবনে আড়ত আছে মজিবুর রহমানের (৭০)। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুই দিন ধরে বাজারে আম উঠতে শুরু করেছে। এর আগে চাষিরা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আম বিক্রি করেছেন। রোববার আমের সরবরাহ বেশি ছিল, দামও ছিল আজকের চেয়ে বেশি। বাইরের ব্যবসায়ীরা এখনো তেমনভাবে বাজারে আসেননি। মনমতো দাম না পাওয়ায় অনেক চাষি পর্যাপ্ত আম বাজারে আনছেন না।

শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের নামোজগন্নাথপুর গ্রামের এক আমচাষি ১৬ ক্রেট ক্ষীরশাপাতি আম নিয়ে বাজারে এসেছিলেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের আগে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে যে আম ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি, আজ সেই আমের দাম ১ হাজার ৭০০ টাকার বেশি বলছে না। মনটা খুবই খারাপ হয়্যা আছে।’ পরে বিকেলে তিনি মুঠোফোনে জানান, আম বিক্রি করতে হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা মণ দরে। আবার ৫৪ কেজিকে এক মণ ধরে হিসাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ওজনদার, হিসাবরক্ষক ও শ্রমিকদেরও আম দিতে হয়েছে। এতে তিনি হতাশ।

ধোবড়া গ্রামের আমচাষি সেতাউর রহমানও দুই ভ্যান ক্ষীরশাপাতি আম নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর আশা ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করবেন; কিন্তু বিকেলে তিনি জানান, আম বিক্রি করেছেন ২ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে। তবে ৫২ কেজিতে এক মণ হিসেবে বিক্রি করতে হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে এত বেশি করে আম দিয়ে বেচতে হচ্ছে, এটা কি দেখার কেউ নেই? প্রশাসন কি আমচাষিদের স্বার্থ দেখবে না?’

অনলাইনে আম বিক্রেতা মো. ওয়াহিদ বলেন, তিনি ১ হাজার ৮৭০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা মণ দরে আম কিনেছেন। তাঁর মতে, যাঁরা তুলনামূলক কম কীটনাশক ব্যবহার করেছেন, তাঁরাই এ দামে লাভ করতে পারবেন। তবে বাজার এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে আমের বাজারে আরও গতি আসতে পারে।