কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে এলাকাবাসীর ভাষ্য।
গতকাল শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে লাকসাম উপজেলার একটি গ্রামে। ঘটনায় অভিযুক্ত ৭০ বছর বয়সী আবদুল রশিদ ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে আছেন বলে জানিয়েছেন লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলি।
গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওসি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। জড়িত ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।
এদিকে শিশুটিকে গতকাল সন্ধ্যায় লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিতে বলেন। কিন্তু পরিবার শিশুটিকে সেখানে নেয়নি। তারা শিশুটিকে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
স্থানীয় অন্তত পাঁচজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির পরিবার খুবই দরিদ্র। গতকাল দুপুরে শিশুটির মা–বাবা দুজনেই কাজে ছিলেন। এ সময়ে ঘরে ঢুকে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করেন আবদুল রশিদ। এমন সময় হঠাৎ শিশুটির মা ঘরে ঢুকলে রশিদ দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে রশিদের পক্ষ হয়ে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি শিশুটির পরিবারকে মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
শিশুটির মা গতকাল রাতে মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দুপুরে ঘরে ফিরে দেখি, লোকটা (রশিদ) মেয়ের সঙ্গে খারাপ কাজের চেষ্টা করছে।’
মেয়েটির বাবা বলেন, ‘এলাকার লোকজন বলছে বিচার করে দিবে, এ জন্য আর মামলা করতে চাই না। তারা যদি ভালো করে বিচার করে দেয়, তাহলে চলবে। একই গ্রামে থাকি, এলাকার লোকজনের বাইরে যাব কীভাবে?’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অন্তত দুজন ব্যক্তি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদকসহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা শিশুটির পরিবারকে বলছেন, ‘যদি আমরা সঠিক বিচার না করতে পারি, তাহলে আপনারা থানায় যাবেন।’ মুক্তকণ্ঠের কাছে আসা একটি ভিডিওতে ওই রাজনৈতিক নেতাদের ভুক্তভোগীর পরিবারকে মীমাংসার আশ্বাস দিতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. এমদাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়েই আমরা এসে যাবতীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ডাক্তার বলেছে শিশুটির সঙ্গে কিছু হয় নাই, আপনারা নিশ্চিন্তে বাসায় যেতে পারেন। শুধু মেয়েটির হাতের মধ্যে একটি কামড় দিয়েছে। আমরা শিশুটির পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছি, সুষ্ঠু বিচার করে দেবো। শিশুটির পরিবার আমাদের কথায় একমত আছে।’
লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে, কিন্তু জড়িত ব্যক্তি এলাকা থেকে আত্মগোপনে আছেন। আমরা ভিকটিমের পরিবারকে মামলা দেওয়ার জন্য বলেছি। তারা অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’






