একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলেন শিক্ষক ও অতিথিরা। হঠাৎ দুই ব্যক্তি লাঠি হাতে নিয়ে এক ব্যক্তিকে পেটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে শিশুশিক্ষার্থীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার সকালে, শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৩৬ নম্বর মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ হাদি জিল্লুরের ওপর এই হামলা করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জসিম ব্যাপারী। ওই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
জসিম ব্যাপারী হামলা করার কথা স্বীকার করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লু আওয়ামী লীগ করেন। এখন বিএনপি ক্ষমতায়, সে কেন অনুষ্ঠানে অতিথি হবেন। এখন অতিথি হবেন বিএনপির নেতারা। তাকে অনুষ্ঠানে দেখেই আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। রাগ নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পেরে বাঁশ দিয়ে হামলা করেছি। তবে তাকে পেটানো হয়নি। সে আওয়ামী লীগ আমলে আমার অনেক ক্ষতি করেছেন। আমার দোকান ভেঙে দিয়েছেন। পুকুর ভরাট করে ফেলেছেন। সে অনেক জ্বালাতন করেছে। এসব কারণে আমি তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলাম।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা চলছে। মঙ্গলবার সিড্যা ইউনিয়নের পাঁচটি বিদ্যালয়ের ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ছিল ৩৬ নম্বর মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সকাল ১০টার দিকে ওই ইউনিয়নের পাঁচটি বিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানটি শিক্ষকদের নিয়ে উদ্বোধন করছিলেন সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ হাদি জিল্লু। জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলেন তাঁরা। এমন সময় বিএনপি নেতা জসিম ও তাঁর এক সহযোগী দুটি লাঠি নিয়ে হাদির ওপর হামলা করেন। পরে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকেরা তাঁকে উদ্ধার করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেন। ওই ঘটনার কারণে বিদ্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরে অনুষ্ঠান চলে।
জসিম ব্যাপারীর বাড়ির পাশেই ৩৬ নম্বর মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাঁদের পরিবারের আত্মীয়রাই ওই বিদ্যালয়ে জমি দান করেছেন। বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে জসিমের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। মামলাসংক্রান্ত কাজে বিভিন্ন সময় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ হাদি বিদ্যালয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া জসিম ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সৈয়দ হাদির শ্বশুরের কাছে হেরে যান। এসব বিষয় নিয়ে হাদির প্রতি জসিম ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ইউপি চেযারম্যান সৈয়দ হাদি জিল্লু মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘একটি অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাইছিলাম। এমন অবস্থায় বিএনপি নেতা জসিম ও তাঁর এক আত্মীয় লাঠি নিয়ে আমার ওপর আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন আমাকে রক্ষা করেছেন। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে জানিয়েছি। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদেরও জানানো হয়েছে। আমি আইনগত পদক্ষেপ নেব।’
৩৬ নম্বর মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত চলাকালীন হঠাৎ চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। জমি নিয়ে জসিম ব্যাপারীর সঙ্গে বিদ্যালয়ের মামলা চলছে। এসব কাজে ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এসব কারণে জসিম ব্যাপারী চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষুব্ধ থাকতে পারেন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান চলে। ওই ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






