রাজধানীর আদাবরে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরা হলেন শোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির।

দুজনকে আজ শুক্রবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৫৪ ধারায় দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি নিয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজুর রহমান আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডে আসামিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁদের বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত চলছে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের স্বার্থে তাঁদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মাহবুব আলম জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার খেলার দিন বিজয় উদ্‌যাপনে উচ্চ স্বরে বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে শোয়েব ও কবিরকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে আদাবরের নবোদয় বাজার এলাকায় একটি সালিস বৈঠক চলাকালে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে বিএনপির আদাবর ইউনিট সভাপতি মো. সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আবুল বাশারের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।