ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে পর্যটনস্পট বা মেলার মতো হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের চেয়ে বহিরাগত মানুষের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুশৃঙ্খল ও বহিরাগতমুক্ত হওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে প্রাঙ্গণে নিয়মবহির্ভূত দোকান ও ব্যবসা জায়গা দখল করে রেখেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ভবঘুরে, টোকাই ও অসামাজিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হরণ করছে।

মল চত্বর, টিএসসি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে বহিরাগতদের হেনস্তার শিক্ষার্থীরা শিকার হচ্ছেন। কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন আচরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করছে। শুধু মেয়ে শিক্ষার্থীরাই নয়, রাতে ভবঘুরে ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অবাধ বিচরণ অন্য শিক্ষার্থীদেরও প্রভাবিত করছে।

দুঃখজনকভাবে, এসব ঘটনায় দোষীদের প্রত্যাশিত শাস্তি দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ শাস্তির আশ্বাস দিলেও ব্যর্থ হয়েছে, যা আইনের নিশ্চয়তা বিঘ্নিত করছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। একজন শিক্ষার্থী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পড়তে এসে এমন বিভ্রান্তির শিকার হলে তার দায় কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে সম্পূর্ণ বহিরাগতমুক্ত ও প্রাণবন্ত করতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।