
মানবিক সহায়তায় ‘আমার আগে আমরা’ সংগঠনের উদ্যোগে কম্বল উপহার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ‘আমার আগে আমরা’ সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ১৮ জানুয়ারি যশোরে মানবিক সহায়তায় কম্বল উপহার কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই বিভাগের সকল সংবাদ

শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ‘আমার আগে আমরা’ সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ১৮ জানুয়ারি যশোরে মানবিক সহায়তায় কম্বল উপহার কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কয়েকটা দিন ভালোই ছিলাম, জানতে চাইনি পৃথিবী কেমন চলছে। দেশ আর বিশ্বের রাজনৈতিক পটভূমি কিছুই মনে আসেনি। কাবা শরিফে কয়েকজন আরব ডেকে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘কোথা থেকে এসেছেন?’ উত্তর দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম, ‘তোমরা?’ উত্তর, ‘ইরান।’ অজান্তেই বলেছিলাম, ‘তোমরা সাহসী, তোমাদের সাহস সুপারসনিক মিসাইলগুলোর মতো চমৎকার।’ ওরা খুশি হয়েছিল কি না বোঝা যায়নি।

খাওয়ার সময় এক যুবক সালাম দিয়ে ইংরেজিতে জানাল, ইয়েমেন থেকে মাসহ ওমরাহয় এসেছে। তাদের সব চুরি হয়েছে। দেশে ফিরে যেতে পারছে না। একটা চিকেন খেতে দিয়ে অর্থিক সাহায্যে অপারগতা প্রকাশ করলাম। তৎক্ষণাৎ সে চলে গেল। পরে জানলাম, একশ্রেণির মানুষের এটা ব্যবসা। মন খারাপ হলো।

ফোনের ওপাশ থেকে বলল, আমি চিকিৎসক ইমরান বলছি। ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে। ফাহিমের অবস্থা খুবই খারাপ। শিগগির কাউকে পাঠান।

হোটেলের প্রবেশমুখে এখনো আস্তানা গেড়েছে বেশ কিছু বিড়াল, সংখ্যায় পনেরো-বিশের কম হবে না। কোন মানুষ হেঁটে যাওয়ার সময় করুণ গলায় মিও মিও করছে, দেখলে মায়া লাগে। এত দিন হোটেলের উচ্ছিষ্ট খেয়ে তাদের চলে যেত, এখন হয়তো মঙ্গা ভর করেছে তাদের পৃথিবীজুড়ে।

তোমরা যতই বলো ‘খাতার গাট্টি’, তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। প্রচণ্ড শীতে খাতা মুড়ি দিয়ে ডেকের কড়া লিকারের চায়ে টোস্ট বিস্কুট ডুবিয়ে খেতে চাই, ভাতের সঙ্গে ডাল-চড়চড়ি খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে চাই।

ক্লক টাওয়ার একবার ডানে হারায়, একবার বাঁয়ে হারায়। এভাবে লুকোচুরি খেলতে খেলতে আমাদের গাড়ি পৌঁছে গেল নির্দিষ্ট গন্তব্যে। আমাদের হোটেল ঠিক করা আছে ইব্রাহিম খলিল রোডের কবুতর মাঠের সামনে।

বাবা সোফায় বসে রইলেন। মেয়েকে স্কুলে নামিয়ে দেবেন অফিসে যাওয়ার সময়। বাবার সঙ্গে মেয়ে কথা বলতে বলতে স্কুলে যাচ্ছে, এ এক মুগ্ধতা জাগানিয়া দৃশ্য!

মসজিদে নববির আজান শ্রুতিমধুর, নামাজের কিরাত পাঠ অসাধারণ কোনো সুর। এখানের কোনায় কোনায় যেন শান্তির বীজ রোপণ করা আছে। কী অদ্ভুত মুগ্ধতা যেন ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রাখা আছে এ জায়গার জল, মাটি, আকাশ আর বাতাসে। এই অনুভূতি আমার কাছে নতুন, আমি এই পরিস্থিতির কাছে অপরিচিত এবং এই বৈচিত্র্যে আমি অনভ্যস্ত বলে এই পরিবেশ আমার কাছে কখনো অদ্ভুত, কখনো আশ্চর্য।

মসজিদে নববিতে ৩০১ আর ৩৩০ নম্বর গেটের পাশে পাসপোর্ট আর ভিসার রেকর্ড রেখে বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। আমি আর আমার স্ত্রী রুনা আসরের নামাজ শেষে ৩৩০ নম্বর গেটে গিয়ে একটি হুইলচেয়ার নিলাম।

ঢাকার রুহিয়ার বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের গড়া রুহিয়া ডেভেলপমেন্ট ফোরামের উদ্যোগে রুহিয়ার দুই ইউনিয়নে এক হাজার শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়।

মিরাকল ঘটে গেল অক্টোবর (২০২৫) মাসে! হজ এজেন্টের সঙ্গে একদিন দেখা হয়ে যায় চলতি রাস্তায়। কথায় কথায় সব ঠিক করে ফেলি। এ ছাড়া বাবাও দু-এক দিন আগে বলছিল ওমরাহর কথা। খুব দ্রুত ভিসা হয়ে যায়।