
হাম ওয়ার্ডের মেঝে-করিডরের পর সিঁড়ির সামনেও শিশুদের ভিড়
কুমিল্লা মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রথম এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে শয্যাসংকটের মধ্যেই বাড়ছে শিশু রোগীদের চাপ।

কুমিল্লা মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রথম এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে শয্যাসংকটের মধ্যেই বাড়ছে শিশু রোগীদের চাপ।

ময়মনসিংহ মেডিকেলের হাম ওয়ার্ডে এক মায়ের সন্তানহারানো কান্নায় সবাই স্তব্ধ। গত ১৭ মার্চ থেকে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে সন্দেহজনক হামে। ওয়ার্ডে ৭৬ শিশু চিকিৎসাধীন।

হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যার ফিল্ড ওয়ার্ড চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তৈরি এই ওয়ার্ডে চিকিৎসক ও ঔষধপত্র প্রস্তুত, কিন্তু অধিদপ্তরের আদেশের অভাবে এখনো রোগী রাখা হয়নি। হাসপাতালে শয্যাঘাটতির কারণে অনেক শিশু মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে।

রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে, সারি সারি বিছানায় অসুস্থ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৬ জন ভর্তি, নার্সসংকটে চিকিৎসা-সেবায় চ্যালেঞ্জ। অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে বেসরকারি হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিন মাস থেকে হামের প্রকোপ দেখা দিলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল শনিবার রাতে থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ড, তথা হাম ওয়ার্ডে রোগী পাঠানো শুরু হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম, যখন প্রথম টিকা দেওয়ার সময় হয়নি। তিন মাসে ২৭০ শিশু ভর্তি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী। হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও হাম কর্নার চালু হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭, ৮ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জোন-৩–এর ছয়টি ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে।

বরিশাল বিভাগে হামের প্রকোপ বেড়েছে, বিশেষ করে বরগুনায় সবচেয়ে বেশি শিশু আক্রান্ত। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করে চিকিৎসা দিচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের আইসিইউ না থাকায় হাম আক্রান্ত শিশুদের বাবল সিপ্যাপ পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। করোনাকালে প্রস্তুত আইসিইউ যন্ত্রপাতি-জনবলের অভাবে চালু হয়নি। হাম ওয়ার্ডে শিশু ভর্তি বাড়লেও এই স্থানীয় প্রযুক্তি অনেককে সুস্থ করছে।