
অধ্যাদেশ: সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবকিছু করা নয়
জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটককে গুম হিসেবে না দেখানোরও যে যুক্তি বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা দেখাচ্ছেন, সেই যুক্তিতে তাঁরাই একসময় গুমের শিকার হয়েছেন।

জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটককে গুম হিসেবে না দেখানোরও যে যুক্তি বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা দেখাচ্ছেন, সেই যুক্তিতে তাঁরাই একসময় গুমের শিকার হয়েছেন।

সিইসি নাসির উদ্দীন দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে আমরা এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির (পিআর) ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা সংস্কার কমিশনের এই প্রস্তাবেতে বিএনপি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে।

আমরা, সংবিধান সংস্কার কমিশনের দুই সদস্য শরীফ ভূঁইয়া ও ফিরোজ আহমেদ, দুটি বিষয়ে কমিশন বরাবর দুটো লিখিত মতামত দিয়েছিলাম। প্রথমটি দেওয়া হয়েছিল ২৩ নভেম্বর ২০২৪। এটি ছিল রাষ্ট্রপতির পদকে শক্তিশালী করা প্রসঙ্গে। অন্যটি দেওয়া হয়েছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪। এটি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও রাষ্ট্রধর্ম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। এই দুটি লিখিত মতামতে আমরা আমাদের যৌথ ভাবনা প্রকাশ করেছিলাম, যা কমিশনের বাকি সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মতামত থেকে ভিন্ন ছিল।

পুলিশ সংস্কার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই জবাবদিহি, পেশাদারি এবং আচরণগত পরিবর্তনের কথা বলি। এসব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সক্ষমতা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আশা করা যায় না।

জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে।

স্বাধীনভাবে করা শিক্ষাগত মূল্যায়ন দেখিয়েছে, পরীক্ষার নম্বর আর শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতার মধ্যে ফারাক ক্রমেই বাড়ছে। ফলে নম্বর বা গ্রেড শিক্ষাব্যবস্থাকে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং প্রকৃত অবস্থাটা আড়াল হয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে জটিলতা তৈরি হলো।

শিক্ষার পরিচালনায় বিকেন্দ্রীকরণ দরকার। শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়াতে হবে, সমতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ এখন গণমাধ্যম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রস্তাবিত সম্প্রচার অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৬ সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।

বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনে তিনি সুজন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কমিশন গঠনের ব্যাপারে তাঁদের কোনো ভূমিকা ছিল না।