
বুদ্ধির মুক্তির অবিচল পথিক
মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও তার ভাবাদর্শ অবলম্বন করে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও ‘শিখা’ পত্রিকা প্রকাশের শত বছর পূর্ণ হলো ২০২৬ সালে। পাশাপাশি অধ্যাপক আবুল ফজলের জন্মদিন ছিল ১ জুলাই। এ উপলক্ষে তাঁর পুত্রের স্মৃতিচারণা।

মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও তার ভাবাদর্শ অবলম্বন করে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও ‘শিখা’ পত্রিকা প্রকাশের শত বছর পূর্ণ হলো ২০২৬ সালে। পাশাপাশি অধ্যাপক আবুল ফজলের জন্মদিন ছিল ১ জুলাই। এ উপলক্ষে তাঁর পুত্রের স্মৃতিচারণা।

১৯৯৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ। জুলাই মাসের এক ভোর। টাইব্রেকারের শেষ শটটি জালে জড়াতেই হৃদপুর বন্দরের রাস্তায় নেমেছিল ব্রাজিল ফুটবল উৎসব। মিছিলটা বেরিয়েছিল তৈবরদার বাড়ির সামনে থেকে। সামনে তবারক কাকু। পরনে ক্যানারি হলুদ জার্সি। হাঁটু পর্যন্ত হাফপ্যান্ট। পায়ে ফুটবল বুট। দুই হাতে বুকের কাছে আগলে রাখা একটি ফুটবল। দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপটা রোমারিও নয়, তিনিই জিতে ফিরেছেন।

বিচারপতি পালের রায়ের তাৎক্ষণিক প্রভাব আদালতে সীমিত হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রতিক্রিয়া ছিল সুদূরপ্রসারী। ১৯৫২—১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল ল কমিশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর রায়ই প্রথমবারের মতো বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিল—যুদ্ধাপরাধের বিচারে একটি স্থায়ী, নিরপেক্ষ ও সুসংগত আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো দরকার। এই উপলব্ধি থেকেই পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ধারণা বিকশিত হয়।

সে একদিন গেছে বটে। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা। টক-ঝাল-মিষ্টি। আরও কত স্বাদের! আমি আর মসিহউদ্দিন শাকের মিলে সূর্য দীঘল বাড়ীর স্ক্রিপ্ট জমা দিলাম ১৯৭৬ সালে। সরকারি অনুদান পেলাম ১৯৭৭ সালে মাত্র আড়াই লাখ টাকা। নগদ তুললাম ৫০ হাজার। শাকের ইঞ্জিনিয়ারগিরি ছেড়ে দিয়ে তার শ্বশুরের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৪০ হাজার টাকা আনল। আমি মোল্লা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে অ্যাকাউন্ট্যান্টের ফুলটাইম চাকরি ছেড়ে পার্টটাইম হলাম; উপরন্তু অফিস থেকে ১৮ হাজার টাকা অগ্রিম তুলে এনে দুজন মিলে আদাজল খেয়ে লেগে পড়লাম।

ক্যামেরুনের পক্ষে ডেভিড এম্বে গোল দিয়েছেন। আব্বা পান চিবুতে চিবুতে প্রবল উত্তেজনায় মাথা ঝাঁকিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে মাথা জোরে টান দিয়ে চিৎকার করে বললেন, ‘গোওওওওওও।’ আব্বার মুখ থেকে পুরো ঘরে ফোয়ারার মতো পানের তুষ ছড়িয়ে পড়ল। আব্বার তুমুল আনন্দে আমাদের খেলা দেখা সহজ হয়ে গেল। আমরা সবাই একসঙ্গে গলা ছেড়ে চেঁচিয়ে উঠলাম, ‘গোওওওওওওল।’

জর্জ অরওয়েল (২৫ জুন ১৯০৩—২১ জানুয়ারি ১৯৫০) তাঁর দুটি কাজের জন্য বিখ্যাত। একটি রূপকাশ্রয়ী উপন্যাস অ্যানিমেল ফার্ম। এটি স্তালিনবাদের সিস্টেমের বিরুদ্ধে লেখা। অন্যটি ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস নাইনটিন এইটি ফোর। এ দুটি উপন্যাসেই লেখক ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করেছেন ও দেখিয়েছেন ‘ক্ষমতা’ কীভাবে নিপীড়ক সংস্থার হয়ে কাজ করে। ক্ষমতাবান (বিগ ব্রাদার বা বড় ভাই) কীভাবে নজরদারিতে রাখে সাধারণ মানুষকে শাসন করার জন্য।

ফুটবল বিশ্বকাপ বা বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই এই ঘটনাটা মনে পড়ে। একা একা হাসি। আবার একই সঙ্গে একধরনের ধূসরতা ছুঁয়ে যায়। হাজার হাজার মাইল দূরের একটা দেশের হারে আমার দেশের মানুষের এত উন্মাদনা হয় কী করে?

দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দীর মরমি কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তারের ‘তাজকিরাত আল-আউলিয়া’ ফারসি ভাষায় রচিত সুফিদের জীবনীভিত্তিক একটি আকরগ্রন্থ। বাংলায় এর আক্ষরিক অর্থ ‘সাধুদের জীবনী’। মূল বইটির পরিসর অনেক বিস্তৃত; কিন্তু ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এবং তাসাউফ ও ফারসি সাহিত্যের পণ্ডিত এ জে আরবেরি (১৯০৫-১৯৬৯) বইটির একটি অ্যাব্রিজড বা সংক্ষিপ্ত ভার্সন প্রকাশ করেছেন। ২০০০ সালে ইংরেজি ভাষায় এটি ‘মুসলিম সেইন্টস অ্যান্ড মিস্টিকস’ নামে বের হয়। বইটিতে ৩৮টি অধ্যায়ে ভাগ করে সুফি সাধক ও তাঁদের জীবনের নানা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ করেছেন আরবেরি। এর একটি অধ্যায় সিজিস্তান বা বর্তমান আফগানিস্তানসংলগ্ন অঞ্চলের অধিবাসী প্রখ্যাত সুফি সাধক মালেক ইবনে দিনারের নামে।

একদিকে ধনকুবেরের বিলাসী জীবন, অন্যদিকে চে গুয়েভারার বিপ্লবের স্বপ্ন সাকার করার আকাঙ্ক্ষা। এক হাতে বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দেওয়া বইয়ের পাণ্ডুলিপি, অন্য হাতে ‘অস্ত্র’। গত শতকের ইউরোপীয় ইতিহাসে জিয়ানজিয়াকোমো ফেলত্রিনেল্লির (Giangiacomo Feltrinelli) চেয়ে রহস্যময় ও বৈপরীত্যে ভরা চরিত্র কি আছে?

মহান ইচক দুয়েন্দে টিয়াদুরে সৃষ্টিজগতের এমন এক প্রবণতার বিমূর্ত ও মূর্তের মিশ্র চিত্র গড়েছেন, যা মানুষের কৃত্রিম শ্রেষ্ঠত্ববাদকে চ্যালেঞ্জ করে। মানুষ কেবল অপরাপর প্রাণ-প্রকৃতি হন্তারকই হয়ে ওঠেনি, এমনকি স্বজাতিকেন্দ্রিকতাও বজায় রাখতে পারেনি, লিপ্ত হয়েছে পরস্পরবিরুদ্ধ চিন্তা ও কার্যক্রমের অর্থহীন লড়াইয়ে, যা সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন প্রাণসত্তার বৃহত্তর সম্পর্কজাল বিক্ষত ও ছিন্ন করে।

পাগল হাসানের জীবদ্দশায় ‘আন্ধাইরপুরীর মানুষ আমি’ গানটা যতটা প্রচার পেয়েছিল, মৃত্যুর পর তা আরও উজ্জ্বল ও বেগবান হয়। বাউলশিল্পীদের কণ্ঠে তো বটেই, ওয়াজ মাহফিলেও ইসলামি বক্তাদের কণ্ঠে এ গান মানুষের হৃদয়ে অনুরণন তোলে।

১২ জুন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো যুদ্ধ শুরুর দিন নয়, কোনো সাম্রাজ্যের উত্থান বা পতনের দিনও নয়। তবু দিনটি মানবসভ্যতার স্মৃতিতে বিশেষভাবে খোদাই হয়ে আছে। ১৯২৯ সালের এই দিনে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে জন্ম নিয়েছিল অ্যান ফ্রাঙ্ক, যে পরে হয়ে ওঠে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানবতার শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।