
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল, ফিরছে পুরোনো আইন
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের আইনে ফেরার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনে সরকারের প্রভাব বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের আইনে ফেরার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনে সরকারের প্রভাব বাড়বে।

মানবাধিকার কমিশনের শক্তিশালী আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইনমন্ত্রী।

মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সরকারের লুকানোর মতো কিছু আছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন এবং খোলাচিঠি লিখেছেন। কমিশনের সচিব বলেছেন, এতে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়েছে। বিদায়ী সদস্যরা ধোঁয়াশায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে রাজনৈতিক সরকারগুলো তো বটেই, অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের সন্দেহাতীত অঙ্গীকার দেখাতে পারেনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ছাড়াই জাতীয় সংসদে অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার কমিশন সরকারের কর্তৃত্বাধীন হবে বলে টিআইবির উদ্বেগ।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংসদে বাতিলের পর পুরোনো আইন পুনর্বহাল হয়েছে। এতে কমিশনের ক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা হ্রাস পাবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ। বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে বিরোধী এনসিপি সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের উত্থাপিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল হয়। হাসনাত রাজনৈতিক দমনের অস্ত্র হিসেবে এর ব্যবহারের আশঙ্কা জানান।

খসড়া আইন পর্যালোচনা করে ১৯টি সুপারিশ সভায় তুলে ধরেন ইফতেখারুজ্জামান।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে পাস করার দাবি জানিয়েছে। সাভারে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগণের সঙ্গে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরে তারা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাগ্য প্রকাশ, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ স্থগিতের সুপারিশে ক্ষুব্ধ টিআইবি। এই অধ্যাদেশগুলো হুবহু বিল করে সংসদে পেশের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা দেখছেন।