
ব্যাংক একীভূত চলবে, খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প পদক্ষেপের পরামর্শ গভর্নরের
একীভূত উদ্যোগে থাকা পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের নিয়ে সভায় আজ গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ বার্তা দেন।

একীভূত উদ্যোগে থাকা পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের নিয়ে সভায় আজ গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ বার্তা দেন।

খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প পদক্ষেপের পরামর্শ গভর্নরের

খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে ইসলামি ধারার বেশির ভাগ ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অতি সম্প্রতি সরকার পাঁচটি ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ইসলামি ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

একীভূত পাঁচ ব্যাংক: ২ বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’

একীভূত পাঁচ ব্যাংকে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে থাকায় ব্যাংকগুলোর ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তাঁদের স্থিতির ওপর কোনো মুনাফা পাবেন না।

ব্যাংকটির সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ডেকেছে ব্যাংক এশিয়া। আজ রোববার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

আমানতকারীদের ২০২৪ ও ২০২৫—এই দুই বছরে মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ১০ হাজার কোটি টাকার দায় কমে যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আজ রোববার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ ও পদায়নের নীতিমালা জারি করেছে।

গত দেড় দশকে দেশে নতুন ১৬টি ব্যাংক অনুমোদন পেয়েছে। সংসদে খোদ অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, এগুলোর বেশির ভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কোনো সন্দেহ নেই, বাংলাদেশের মতো ছোট বাজারে এত বেশি ব্যাংক থাকায় আন্তব্যাংক প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ফলে অনেক ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দিতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দ ঋণ ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি গড়ে ওঠায় অনেক ব্যাংকই এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে যেভাবে অপসারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে চরম সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের সংকট ও অনিশ্চয়তা কাটাতে তিনি কী করেছেন বা কী করেননি অর্থাৎ তাঁর সাফল্য ও ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে। অর্থনীতিবিদদের কাছে তিনি প্রশংসনীয় হলেও ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের কাছে তিনি সমালোচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাংকের গ্রাহকদের বড় অভিযোগ, তাঁর কারণে তাঁরা ব্যাংক থেকে তাঁদের আমানত তুলতে পারছিলেন না। আহসান এইচ মনসুরই তাঁদের টাকা আটকে দিয়েছেন। বিষয়টি কেমন? আসুন দেখা যাক।