
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে চিরচেনা রাজনৈতিক দ্বিচারিতা
ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা সব সময়ই স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই দর্শন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধারণ করা হয়েছিল।

ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা সব সময়ই স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই দর্শন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধারণ করা হয়েছিল।

নাগরিক কোয়ালিশন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথককরণ সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের প্রতিবাদে সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জনগণের অভিপ্রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিবৃতিতে জাতীয় ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করে সংস্কারগুলো রক্ষার দাবি করা হয়েছে।

৩১ দফা ও ইশতেহারে বিএনপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলেছে; কিন্তু বাতিল করেছে দুই অধ্যাদেশ।

বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে মনে করেন আইনজীবী শিশির মনির।

আর্থিক স্বাধীনতা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করে। এই চিন্তায় ভ্রান্তি থাকতে পারে। কিন্তু বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দকে রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশলগত বিনিয়োগ(স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্ট) বিবেচনা করা হয়, এটি অভ্রান্ত সত্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যাবে না, সংসদে আইন প্রণয়নের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জরুরি। অধ্যাদেশের অভাবে সরকারের অঙ্গীকার প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এটি শাহদীন মালিকের মতামত।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলে সরকারের সিদ্ধান্তকে ডাকসু স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রমাণ বলছে।

কাগজে–কলমে আদালত স্বাধীন হলেও এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যথেষ্ট বাগাড়ম্বর থাকলেও আদতে আদালত কতটুকু স্বাধীন, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

বিচার বিভাগ সংস্কারে বিএনপির অতীতের দাবি এবং সাম্প্রতিক অবস্থানের মধ্যে অসংগতি দেখা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনা জাগিয়েছে।

‘ইয়াং জাজেস ফর জুডিশিয়াল রিফর্ম’ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ পাসের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি মঙ্গলবার বিবৃতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার ও জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য উল্লেখ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের অনুরোধ করেছে।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করায় ৩১ বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের আশঙ্কা করা হয়েছে। সরকারকে নির্বাচনী অঙ্গীকার মেনে চলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে সাক্ষাতে পুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা জানান। পুলিশ সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দুর্নীতি দমন নিয়ে দুই পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইইউ সকল সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।