
ধ্বংসস্তূপের ভেতরেও আলো আঁকেন যে নারী
ফিলিস্তিনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর আর্ট বা শিল্প বেঁচে থাকারই একটি ভাষা, একটি অভিব্যক্তি। মারাহ খালেদ আল-জাআনিন সেই ভাষারই একজন একান্ত নিবিড় শিল্পী।

ফিলিস্তিনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর আর্ট বা শিল্প বেঁচে থাকারই একটি ভাষা, একটি অভিব্যক্তি। মারাহ খালেদ আল-জাআনিন সেই ভাষারই একজন একান্ত নিবিড় শিল্পী।

বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পচর্চায় আজ একদিকে রয়েছে বাস্তবানুগ বা ফটোগ্রাফিক দক্ষতার প্রতি প্রবল আকর্ষণ, অন্যদিকে রয়েছে প্রকৃতি ও বাস্তবতাকে আত্মস্থ করে সেটিকে নতুন নন্দনভাষায় রূপ দেওয়ার প্রবণতা। রাজধানীর গ্যালারি কায়ার ২২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ দলগত প্রদর্শনীটি দ্বিতীয় প্রবণতার এক বিস্তৃত ও তাৎপর্যপূর্ণ মানচিত্র হাজির করেছে। প্রদর্শনীতে ৪৫ জন আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্পীর ৭৩টি নির্বাচিত শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। ১৯৫৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় সাত দশকের শিল্পযাত্রাকে একত্র করেছে এই আয়োজন।

লালমাটিয়ার মাফা গ্যালারিতে চলছে ‘আ গ্রেসফুল বিগিনিং’ চিত্রপ্রদর্শনী, যাতে ৪৪ জন প্রবীণ-নবীন শিল্পীর কাজ রূপ, রং ও সময়ের সংলাপ স্থাপন করেছে। প্রয়াত সফিউদ্দিন আহমেদের কাজসহ বিভিন্ন শৈলীর চিত্রকর্ম সমাজ-মানুষের গভীর প্রতিফলন তুলে ধরে। ৮ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত খোলা এই প্রদর্শনী শিল্পের ধারাবাহিকতার সংবেদনশীল দলিল।

ইফ্ফাত আরা দেওয়ানের ১৯৯৭ সালের ‘অপরাজিতা’ চিত্রকে কেন্দ্র করে শিল্পাঙ্গনের আয়োজনে গ্যালারি দ্য ইলিউশনসে চলছে প্রদর্শনী। ১৯৯৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অঙ্কিত শিল্পকর্মগুলোতে সরলতা, শূন্যতা ও অন্তর্মুখী অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেছে। প্রদর্শনী ১ মে থেকে ১৬ মে ২০২৬ পর্যন্ত খোলা।

১৯৪০ থেকে ১৯৬০–এর দশকে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন প্রজন্মের এই আট শিল্পীর প্রত্যেকের কাজে নিজস্ব ভাষা ও অভিজ্ঞতার প্রাধান্য রয়েছে।

এক বর্গফুটের ক্ষুদ্র পরিসরেও যে অসংখ্য গল্প, অনুভব ও জীবনবোধ জন্ম নিতে পারে, এই উপলব্ধির নান্দনিক অনুসন্ধান থেকেই শিল্প প্রদর্শনী ‘ওয়ান স্কোয়ার স্টোরিজ’-এর সূচনা।

এই আয়োজনের সুবাদে আমরা কয়েকজন শিল্পীর সান্নিধ্যে কাটালাম স্মরণীয় একটি সন্ধ্যা। আয়োজক চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্প-সমঝদার ও পৃষ্ঠপোষক তারিকুল ইসলাম।

রেখার সংযম ও প্রাচ্য নন্দনের ইঙ্গিত মিলিয়ে শিল্পী ঐতিহ্যকে নতুন ভিজ্যুয়াল ভাষায় পুনর্বিন্যাস করেছেন।

দেশবরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী তাঁর স্নেহধন্য কয়েকজন ছাত্রকে নিয়ে গোবরাতলাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি মহানন্দা–পদ্মার তীরভূমিতে ঘুরে এসেছেন।

সেই অর্থে এই প্রদর্শনীকে বলা যায় জাগতিক ও মহাজাগতিকের মধ্যে এক সৃজনশীল সেতুবন্ধের শিল্পভাষা। রাজধানীর সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী শিল্পগুরু সফিউদ্দিন আহমেদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। তবে এই শ্রদ্ধা নিছক আনুষ্ঠানিক নয়; বরং একজন শিল্পীর আত্ম–অনুসন্ধানী যাত্রার মধ্য দিয়ে আরেক শিল্পগুরুকে স্মরণ। গত ২৬ জুন শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি ৫ জুলাই পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।

‘ভূমি গ্যালারি’র উদ্বোধনী প্রদর্শনীর সাফল্যের পর, এবার তিন প্রজন্মের ১০ শিল্পীর সমসাময়িক কালে আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে ‘পারসিসটেন্স’ অর্থাৎ ‘সংকল্প’ নামে বিশেষ একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ১৯ জুন শুক্রবার। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগে ও পরের অর্থাৎ গত শতকের সত্তর ও আশির দশকের আটজন স্বনামধন্য চিত্রশিল্পীর সঙ্গে এ শতকের শূন্য ও ১০ দশকের অপেক্ষাকৃত তরুণ দুজন শিল্পীও এ প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এই দুই শিল্পী সহিদ কাজী ও আবদুল্লাহ আল বশীর।

অনিন্দিতা অনির এই প্রদর্শনী তাই কেবল নারীর গল্প নয়; এটি স্মৃতি, সময়, শরীর, সম্পর্ক ও অস্তিত্বের এক দীর্ঘ যাত্রার দৃশ্যরূপ। পাথরের নীরবতার ভেতর তিনি শুনিয়েছেন নারীর বহু উচ্চারিত ও অনুচ্চারিত কাহিনি। আর সেই কাহিনি পড়তে পড়তে দর্শকের মনে হয়—এ যেন রংতুলিতে লেখা এক উপন্যাস, যার প্রতিটি অধ্যায় একটি পাথর, আর প্রতিটি পাথরের ভেতর লুকিয়ে আছে এক একটি জীবন।