
হামলা সত্ত্বেও চুক্তির আশা: রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জয়পুরে বলেছেন, ইরানে নতুন মার্কিন হামলা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জয়পুরে বলেছেন, ইরানে নতুন মার্কিন হামলা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে যে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে, তাকে স্বাগত জানানো হলেও এটি কিছু কঠিন সত্য সামনে নিয়ে এসেছে।

ইরাক সফরে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে তেহরানের একক নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই ‘মহান চুক্তি’ পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে।

আজকের লড়াইটা কেবল সম্পদের নয়, প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণের। আর এই লড়াইকেই বলা যায় ‘রুট–যুদ্ধ’। এই যুদ্ধের কোনো দৃশ্যমান যুদ্ধক্ষেত্র নেই। কিন্তু প্রতিটি চুক্তি, প্রতিটি পাইপলাইন প্রকল্প, প্রতিটি রুট পরিবর্তনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এখানে রাষ্ট্রগুলো এমনভাবে জ্বালানি করিডর তৈরি করতে চায়, যাতে তাদের প্রভাব বাড়ে, প্রতিপক্ষের বিকল্প কমে এবং ভবিষ্যতের বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

সি চিন পিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে ইরান, তাইওয়ান ও বাণিজ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশের ‘অনেক ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার’ সমাধান করা হয়েছে। তবে সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে সুনির্দিষ্ট চুক্তি হয়নি।

ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চীনের সাহায্যের দরকার নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে এবং পাকিস্তান, ইরাকের সঙ্গে চুক্তি করেছে। অন্য দেশগুলোও এখন ইরানের সঙ্গে চুক্তির উপায় খুঁজছে।

ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও নতুন দর-কষাকষির সম্ভাবনা রয়েছে। লেখকের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, ইরানিদের কাছে চুক্তি মানেই নতুন আলোচনার শুরু। ট্রাম্পের চরম অবস্থান এবং ইরানের কৌশল টেকসই শান্তি বাধা দিচ্ছে।

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছে। তবে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে চুক্তিটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থী ইরানবিরোধীরা একে একটি একপেশে চুক্তি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সব রাজনৈতিক দলই একে একটি ‘বাজে চুক্তি’ হিসেবে গণ্য করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগমনের ৬ দিন পর, ২০ মে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চীনে স্বাগত জানান। চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ২০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির চাপের মধ্যেই ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে একটি জাহাজ আজ বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছেছে। ইউনিপেক নামের চীনের একটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে।

বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।