
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে কীভাবে কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় এখন পাকিস্তান।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় এখন পাকিস্তান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়।

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইসরায়েল-লেবাননের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

যেকোনো যুদ্ধে শুধু অস্ত্র নয়, সময়ও একটি বড় শক্তি। ক্যালেন্ডার অনেক সময় কামানের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতেও এ বাস্তবতা স্পষ্ট। এখানে তিনটি দেশ শুধু একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে না, তারা লড়ছে সময়ের সঙ্গেও। প্রতিটি পক্ষের নিজস্ব রাজনৈতিক সময়সীমা আছে, আর সেই সময়সীমাই তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় ইরান হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য 'সম্পূর্ণ উন্মুক্ত' ঘোষণা করেছে।

ইসরায়েলিদের ক্ষোভ মেটানোর জন্য লেবানন একটি নিখুঁত লক্ষ্যবস্তু। দেশটির সামরিক বাহিনী অত্যন্ত দুর্বল। খ্রিষ্টান, সুন্নি ও শিয়া মুসলিমদের মধ্যকার ক্ষমতার টানাপোড়েন লেবাননের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দীর্ঘকাল ধরে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে লেবাননের ভূখণ্ডে হানা দেওয়ার ছুতা খোঁজে ইসরায়েল।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের পাল্টা হামলার ধকল সইতে হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যে পুনরায় পাকিস্তানে শুরু হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর হওয়ায় হরমুজ প্রণালি অচল, তেল-গ্যাসের দাম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। জাহাজ চলাচল কমে সরবরাহে চাপ, বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শক্তিগুলোর সমন্বয় ছাড়া সমাধান কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বনেতারা স্বস্তি পেলেও ট্রাম্পের খামখেয়ালি আচরণে আস্থা হারিয়েছেন। এ যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে। নেতারা কূটনীতির মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি চাইছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দরপত্র ছাড়া তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনটি কোম্পানি থেকে সরাসরি ক্রয় করা হবে এই ডিজেল।

বিবিএসের তথ্যে চলতি অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। শিল্প খাতে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি ১.২৭ শতাংশ।