
নেত্রকোনায় দুটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৯ হাজার হেক্টর খেতের ধান পানির নিচে
নেত্রকোনায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কংস নদের পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার এবং উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কংস নদের পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার এবং উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কৃষক আবদুল মালিক (৮৫) হাওরে ২৯ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে ২০ বিঘাই তলিয়ে গেছে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে।

চার দিনের বৃষ্টি শেষে দেখা দিয়েছিল রোদ। কিষান–কিষানিরা দলে দলে বেরিয়ে পড়েছিলেন ঘরের বাইরে।

টানা চার দিনের বৃষ্টির পর সুনামগঞ্জেও রোদের দেখা মিলেছে। দুর্ভোগে পড়া হাওরের কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটায় শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় জেলার সব বালুমহাল আরও পাঁচ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

টানা চার দিনের বৃষ্টির পর আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কিশোরগঞ্জে রোদ উঠেছে। এতে বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

সুনামগঞ্জে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। গতকাল বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলাটিতে ভারী বৃষ্টি না হলেও ঢলের পানিতে নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে।

মৌলভীবাজারে টানা কয়েক দিনের হালকা ও ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন হাওরে পানি বেড়েছে।

নেত্রকোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আজ বুধবার ৯টা পর্যন্ত মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে জেলায়।

অসাধারণ এক পাখির দেখা পেলাম। পাখিটি বাংলাদেশে বিলুপ্তই বলা চলে। গত ৫০ বছরে দেখা গেছে মাত্র চারবার। এর মধ্যে দুই বছর ধরে দেখা যায় বড় হাওরে।

সুনামগঞ্জে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে জেলার হাওরগুলোতেও পানি বেড়ে দ্রুত জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিতে নেত্রকোনার ধনু, কংস, সোমেশ্বরী, ভুগাই, উব্দাখালি, মগরাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।