
সিদ্ধান্ত পাল্টে সংলাপে ফিরল ইরান, ট্রাম্প বললেন—‘দ্রুতগতিতে’ আলোচনা চলছে
ইরান গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের পাশাপাশি লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

ইরান গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের পাশাপাশি লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

শিরিন আবু আকলেহর হত্যার চার বছর পার হয়েছে, কিন্তু বিচার হয়নি। অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই দায়মুক্তি ইসরায়েলকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বাড়াতে উৎসাহিত করেছে। গাজা, লেবানন ও পশ্চিম তীরে শত শত সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড ইরানি ট্যাঙ্কারে হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণের হুমকি দিয়েছে। ট্রাম্প ওয়াশিংটনের শান্তি প্রস্তাবে ইরানের দ্রুত জবাব আশা করছেন। লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা চলছে, খারগ দ্বীপে তেল ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরান শুধু একটি রাষ্ট্র নয়, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর ইরানের প্রভাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হলে এসব নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢুকে পড়বে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসন পরস্পর সাংঘর্ষিক দুটি চুক্তি সই করেছে। ইরানের ওপর শান্তির শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার যে ক্ষমতা ইসরায়েল হারিয়েছিল, সেটি তারা এখন লেবাননে ফিরে পেতে চাইছে।

১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়। লেবাননে বোমাবর্ষণ বন্ধের ঘোষণা আসে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হত্যা, সহিংসতা থামানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

ইরান যুদ্ধ অবসানের জন্য এ যুদ্ধবিরতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার প্রথম পর্ব শুরু করতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন।

লেবাননের বিশ্লেষক সারকিস নাওম বলেন, ‘এটি একটি মহা সমঝোতা, যেখান থেকে ফেরার পথ নেই।

ইরান যুদ্ধের কারণে মানুষের কত বড় ক্ষতি হয়েছে, তা এরই মধ্যে স্পষ্ট। ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ‘প্রতিরোধ সমীকরণ’ তৈরি করতে চাইছে। সেই অনুযায়ী, লেবাননের যেকোনো জায়গায় ইসরায়েল হামলা চালালে ইরান সরাসরি তার ওপর পাল্টা আঘাত হানবে।

সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে (রণাঙ্গনে) লড়াই বন্ধের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনা চলাকালে ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে।