
ভাষার বহু স্বর ও রাজনীতির ছায়া প্রসঙ্গ
‘ইনসাফ’ শব্দটি যে আবেগময় ন্যয়বোধ জাগায়, ‘ন্যয়বিচার’ শব্দটি তার তুলনায় অধিক আনুষ্ঠানিক।

‘ইনসাফ’ শব্দটি যে আবেগময় ন্যয়বোধ জাগায়, ‘ন্যয়বিচার’ শব্দটি তার তুলনায় অধিক আনুষ্ঠানিক।

আলাওলের অভিবাসী-জীবনের করুণ কাহিনির সঙ্গে সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের করুণ জীবনের সাদৃশ্য দেখে চমকে উঠতে হয়।

১৯৩৮ থেকে ১৯৪৪ সালের মধ্যে জিয়াকোমেট্টির ভাস্কর্যগুলোর সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল মাত্র ৭ সেন্টিমিটার (২.৭৫ ইঞ্চি)।

সাহিত্য হলো বহু মানুষের ‘সহিত’ মিলিত হওয়ার বাসনার ফল, আর রস হলো বহু হৃদয়ের একাত্মতার গাঁথুনি। ভাষায় রসের সঞ্চারের দ্বারাই হরেক রকমের মুখ ও হৃদয় সমাজ আকারে সংকলিত হয়।

এই নীরবতা ও উদাসীনতার দায় সাধারণ মানুষের নয়; বরং নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, প্রশাসকদের।

১৮৩৭ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি আইন নং ২৯–এর মাধ্যমে ফারসির পরিবর্তে ওডিশি, বাংলা ও হিন্দুস্তানি (উর্দু) ভাষাকে আদালতের ভাষা করা হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং ফাগুনের আগুন দ্রোহের আগুন জ্বালায়, সেই তাপে শাসকগোষ্ঠী নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়

‘শিল্প অরাজনৈতিক’—এই দাবি আসলে একধরনের নান্দনিক নিরপেক্ষতার কল্পনা, যা নিজেকে অরাজনৈতিক বলে ঘোষণা করার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক হয়ে ওঠে।

জেন্ডার স্টাডিজ, উইমেন স্টাডিজ, ফেমিনিজম, ফেমিনিস্ট লিটারেচার, থার্ড ওয়ার্ল্ড লিটারেচার, নৃবিজ্ঞান, এরিয়া স্টাডিজ, সোশিওলজির মতো জ্ঞানকাণ্ডের বিচিত্র শাখার পাঠ্যসূচিতে রোকেয়ার রচনা এখন অন্তর্ভুক্ত।

তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘ভারতবর্ষে আমরা এমন এক শিক্ষিত শ্রেণি তৈরি করতে চাই, যাদের চামড়া হবে ভারতীয় কিন্তু রুচি হবে ইউরোপীয়।’

তিনি ছিলেন সেই বিরল প্রতিভাদের একজন, যাঁরা স্লোগানসর্বস্ব, কোলাহলপূর্ণ কবিতার যুগেও মিতভাষী, শান্ত অথচ গভীর জীবনবোধের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন।

বিষাদ-সিন্ধু শুধু বহুলভাবে পঠিত হয়নি, বহুলভাবে শ্রুতও হয়েছে। সাধু গদ্য কেন পাঠকপ্রিয় হলো কিংবা নিরক্ষর শ্রোতার কানেও ‘স্বাদু’ হয়ে উঠল, সেটি একটি প্রশ্ন বটে!