
আন্দোলন–সংগ্রামে একুশের স্মৃতি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং ফাগুনের আগুন দ্রোহের আগুন জ্বালায়, সেই তাপে শাসকগোষ্ঠী নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং ফাগুনের আগুন দ্রোহের আগুন জ্বালায়, সেই তাপে শাসকগোষ্ঠী নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়

‘শিল্প অরাজনৈতিক’—এই দাবি আসলে একধরনের নান্দনিক নিরপেক্ষতার কল্পনা, যা নিজেকে অরাজনৈতিক বলে ঘোষণা করার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক হয়ে ওঠে।

শুধু রাজনৈতিক কবিতার মধ্যে লিভারটভের সুনাম সীমাবদ্ধ থাকেনি; কবিতার আঙ্গিক নিয়ে তাঁর ‘অর্গানিক ফর্ম’ তত্ত্বটি আজও বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়।

জেন্ডার স্টাডিজ, উইমেন স্টাডিজ, ফেমিনিজম, ফেমিনিস্ট লিটারেচার, থার্ড ওয়ার্ল্ড লিটারেচার, নৃবিজ্ঞান, এরিয়া স্টাডিজ, সোশিওলজির মতো জ্ঞানকাণ্ডের বিচিত্র শাখার পাঠ্যসূচিতে রোকেয়ার রচনা এখন অন্তর্ভুক্ত।

আমাদের সামাজিক অস্তিত্বের মধ্যে এই টানাপোড়েন, এই দোদুল্যমানতা নিহিত আছে এবং এ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।

তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘ভারতবর্ষে আমরা এমন এক শিক্ষিত শ্রেণি তৈরি করতে চাই, যাদের চামড়া হবে ভারতীয় কিন্তু রুচি হবে ইউরোপীয়।’

তিনি ছিলেন সেই বিরল প্রতিভাদের একজন, যাঁরা স্লোগানসর্বস্ব, কোলাহলপূর্ণ কবিতার যুগেও মিতভাষী, শান্ত অথচ গভীর জীবনবোধের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন।

একই পরিস্থিতিতে ও পরিবেশে দীর্ঘদিন একই ধরনের কাজে নিয়োজিত থাকার ফলে এক ধরনের অভ্যাস, রীতি, দৃষ্টিভঙ্গি, ছন্দ, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবোধ গঠিত হয়।

চোখ বন্ধ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অস্ফুট স্বরে বললেন, ‘আমরা কবিরা স্বপ্ন দেখি যে ইহুদিরা জাতীয়তাবাদের পশ্চিমা ধারণা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারলে ফিলিস্তিনকে তারা গড়তে পারবে।’

মাইকেল তাঁর মহাকাব্যে জীবন থেকে চরিত্র না নিয়ে বরং চরিত্রদের জীবন দান করে বিশ্বস্তভাবে অটল থাকেন হিন্দু পুরাণের জগতে।

‘বোর্হেসের অপ্রকাশিত বা অগ্রন্থিত’ শীর্ষক গ্রন্থগুলোয় যেসব রচনা আছে তার কোনোটিতেই রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক এই বক্তৃতাটি নেই।

বিষাদ-সিন্ধু শুধু বহুলভাবে পঠিত হয়নি, বহুলভাবে শ্রুতও হয়েছে। সাধু গদ্য কেন পাঠকপ্রিয় হলো কিংবা নিরক্ষর শ্রোতার কানেও ‘স্বাদু’ হয়ে উঠল, সেটি একটি প্রশ্ন বটে!