
ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, হুমকির মধ্যে ১৭টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি যুদ্ধাপরাধ।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, হুমকির মধ্যে ১৭টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি যুদ্ধাপরাধ।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে ‘সভ্যতা ধ্বংস’ হুমকি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে শীর্ষ গণমাধ্যম ও আইনবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘনের আশঙ্কায় মার্কিন রাজনীতিক ও জাতিসংঘও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা নিষিদ্ধ বলে জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত নয়টি উড়োজাহাজ ভূপাতিত বা ধ্বংস হয়েছে। বিবিসির তালিকায় ৫ এপ্রিল থেকে ২ মার্চের মধ্যে এফ–১৫ই, ই-৩ সেন্ট্রি, কেসি-১৩৫সহ বিভিন্ন ধরনের বিমানের ঘটনা উল্লেখ আছে। ছবি বিশ্লেষণ ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে যুদ্ধাপরাধ। তিনি হরমুজ প্রণালী খোলার মাগডা দিয়ে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরানোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ন্যাটো মিত্ররা এই যুদ্ধে যোগ দেয়নি।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তেহরানের প্রাচীন রাফি-নিয়া সিনাগগ ধ্বংস হয়েছে। সোমবার রাতের হামলায় ইরানে অন্তত ১৫ জন নিহত। ইহুদি প্রতিনিধি হোমায়ুন সামেহ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ইরান অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রু উদ্ধার অভিযানের আড়ালে তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরি করতে এসেছিল। এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘একটি বিপর্যয়’ হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনী অভিযানটিকে প্রতারণামূলক ও ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছে।

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন সেনার খবর ফাঁসকারী সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোপনীয় তথ্য ফাঁসের ফলে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়। ইরানি গণমাধ্যম প্রথম বিমান বিধ্বস্তির খবর প্রচার করেছিল।

দ্রুত সম্প্রসারণশীল একটি নতুন বাজার থেকে এই গোয়েন্দা তথ্যগুলো আসছে।

ট্রাম্প ইরানকে এক রাতে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছেন, যখন পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি খোলার পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। তেহরান অস্থায়ী বিরতি মানতে নারাজ, পুরোপুরি যুদ্ধবন্ধ চায়। যুদ্ধের ৩৮তম দিনে ব্যাপক হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত বেড়েছে।

বৈশ্বিক সংকটে দেশে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ছে। দ্বিগুণ দামে এলএনজি আমদানি করেও গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্ধেকের বেশি ক্ষমতা অলস এবং লোডশেডিং বাড়ছে।

ট্রাম্পের কঠোর হুমকি সত্ত্বেও ফিলিপাইন, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার দেশগুলো ইরানের সঙ্গে চুক্তি করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল এ দেশগুলো কূটনীতির মাধ্যমে পথ খুঁজে নিচ্ছে। তবে চুক্তিগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বৈশ্বিক সংকটে কাতার-ওমান থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, খোলাবাজার থেকে দ্বিগুণ দামে কিনে গ্যাস ধরে রাখা হচ্ছে। তবু গ্যাস ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বাড়ছে। ভর্তুকি ও ডলারের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।