
তলিয়ে যাওয়া হাওরকে বুঝতে হবে হাওরবাসীর আয়নায়
তিন ধরনের ‘বন্যা’ হয় হাওরে। উকিল মুন্সীর গানের মতো ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’ সাধারণ ঋতুভিত্তিক বন্যা।

তিন ধরনের ‘বন্যা’ হয় হাওরে। উকিল মুন্সীর গানের মতো ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’ সাধারণ ঋতুভিত্তিক বন্যা।

আগে হাওরের বাঁধ ভেঙে ধান নষ্ট হতো। এবার হঠাৎ বৃষ্টিতে, জলাবদ্ধতায়। তরমুজ, মুগ ডাল, বাদাম ও সূর্যমুখীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুনামগঞ্জে এবার মার্চের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় অতিবৃষ্টি, নামে উজানের পাহাড়ি ঢল।

হাওরের ফসলহানির ফলে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে, প্রকৃত কৃষকদের তালিকায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে বক্তারা জানান।

নাসিরনগরে টানা বৃষ্টিতে হাওরের ধান তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে ফসল হারিয়ে দিশাহারা কৃষকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা হাজার ছাড়ালেও অনেকের নাম এখনো সরকারি তালিকায় ওঠেনি, ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

সরকারি হিসাবে হাওরে ৬২ শতাংশ খেতের ধান কাটা হয়েছে। আর অতিবৃষ্টিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ হেক্টর জমির ধান।

শুকাতে না পেরে ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বস্তাসহ সেসব ধান হাওরের পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন কিশোরগঞ্জের হাওরের কৃষকেরা।

নেত্রকোনার হাওরে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা বোরো ধান। শ্রমিকসংকট ও অনিশ্চয়তায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নাসিরনগরের হাওরের ফসলে জমির তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।

কিশোরগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও ঢলে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। রোদ না থাকায় কাটা ধানও নষ্ট হচ্ছে, দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা।

সুনামগঞ্জে আবার বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হওয়ায় হাওরের ধান কাটা ও শুকানো নিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। টানা দুর্যোগের পর দুই দিনের স্বস্তি মিললেও গতকাল শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি।

ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরগুলো আবারও ডুবে গেছে।