
হরমুজ দ্রুত না খুললে বড় সংকট হবে: সৌদি আরামকো
ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলবাহী জাহাজগুলো হরমজু প্রণালি দিয়ে যেতে পারছে না। এর ফলে প্রতিদিন বৈশ্বিক সরবরাহ প্রায় দুই কোটি ব্যারেল কমে যাচ্ছে।

ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলবাহী জাহাজগুলো হরমজু প্রণালি দিয়ে যেতে পারছে না। এর ফলে প্রতিদিন বৈশ্বিক সরবরাহ প্রায় দুই কোটি ব্যারেল কমে যাচ্ছে।

মাদারীপুরে জ্বালানি তেলের সংকটে শত শত মানুষ তেলপাম্পে ভিড় করে অপেক্ষা করছেন। সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তেল কিনতে হচ্ছে, যাতে কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। কর্তৃপক্ষ সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন।

সিলেট নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন পানির চাহিদা ১২ কোটি লিটার। এর বিপরীতে সিটি করপোরেশন মাত্র সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে। এতে দুর্ভোগে আছেন নগরবাসী।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে কঠোর হামলার হুমকির পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ডব্লিউটিআই তেলও ১১০ ডলারের ওপরে ওঠে। ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী বন্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।