
কাগজে-কলমে চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, কিন্তু সাগরে বিশৃঙ্খলা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে।

ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলবাহী জাহাজগুলো হরমজু প্রণালি দিয়ে যেতে পারছে না। এর ফলে প্রতিদিন বৈশ্বিক সরবরাহ প্রায় দুই কোটি ব্যারেল কমে যাচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে। জ্বালানি সংকট, ব্যয় বৃদ্ধি ও কমে যাওয়া ক্রয়াদেশে চাপ বাড়ছে শিল্প ও শ্রমবাজারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে—এমন আতঙ্কে খুলনা ও সিলেটের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে ভিড় করছেন চালকেরা। কোথাও ‘তেল নেই’, কোথাও নির্দিষ্ট পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে।

ম্যাককোয়ারি গ্রুপের গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চললে তেলের দাম সাময়িকভাবে ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে, সম্ভাবনা ২০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও হরমুজ বন্ধের কারণে ডব্লিউটিআই ক্রুড ১০০ ডলার পেরিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সরবরাহ সংকট গভীর হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে।

১৯৫৬ সালে সুয়েজ খালের জাতীয়করণ ছিল তেমনই এক সন্ধিক্ষণ, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। এই সংকট ব্রিটেনের আর্থিক দুর্বলতাকে নগ্ন করে দিয়েছিল। মার্কিন চাপের মুখে পাউন্ড স্টার্লিংয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে তার অবস্থান দ্রুত ক্ষয়ে গিয়েছিল। আর শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী হাত গুটিয়ে আনা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম নিয়ে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত হবে এবং পুঁজিবাজারে বড় পরিবর্তন আসছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাস আমদানির চাপ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় আশা প্রকাশ করেছেন।

জ্বালানি সংকটে ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন। রাইড শেয়ার চালক দেলোয়ার হোসেন বাইক রেখে রিকশা চালানোর কথা ভাবছেন। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে তেলের বাজার অস্থির হওয়ায় চালকদের আয় কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, আজ বৃহস্পতিবার ডলারের গড় দাম অপরিবর্তিত ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। বেশিরভাগ প্রধান মুদ্রার দর বেড়েছে, কোনোটির দাম কমেনি। মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ কারণে দুই মাস ধরে মুদ্রার দাম ওঠানামা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো ভুগছে। জ্বালানিসংকট প্রকট হচ্ছে। এসব কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পার বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো সংস্থাগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, আজ ডলারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে যার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। বেশিরভাগ প্রধান মুদ্রার দামও অপরিবর্তিত। মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বিদেশি মুদ্রার দামে ওঠানামা চলছে।