
পঞ্চগড়ে ‘পুশ ইন’ ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও, দেওয়া হয়েছে বাঁশি–টর্চলাইট
দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টার ঘটনার মধ্যে পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি।

দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টার ঘটনার মধ্যে পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি।

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল মূল আলোচনা হয়।

দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ ইনের ঘটনার পর কুমিল্লা সীমান্তে সতর্কতা বাড়িয়েছে বিজিবি। গোমতী নদীকেন্দ্রিক এলাকায় দিন-রাত টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কারও দিক থেকেই এটা করা বাঞ্ছনীয় নয়। এর শুরুটা করেছে ভারত, ফলে দায়িত্বটাও তাদের ওপর থাকবে।

পুশ ইন নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা চলার মধ্যে একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, বিজিবির হাতে ধরা পড়েছেন ভারতীয় এক গুপ্তচর। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এই ভিডিও সীমান্তেরও নয়, এখনকারও নয়।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ ইন’ চেষ্টার শিকার নারী-শিশুসহ ১০ জন ৫৯ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যে শূন্যরেখার ফসলি জমির সরু আইলে তাঁদের কেউ বসে আছেন, কেউ দাঁড়িয়ে।

অবৈধ ঠেলে পাঠানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে বিজিবি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছে বাহিনীটি।

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ভারতের ৭৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে, বাকি ১০ কিলোমিটার আছে উন্মুক্ত।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে বজ্রবৃষ্টির সময়ও তাঁরা সেখানে ছিলেন। শূন্যরেখায় ফসলি জমির যে আলটিতে তাঁরা বসে আছেন, সেখানেও পানি জমেছে।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে সাতজনকে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী।

কোথাও খোলা আকাশের নিচে, কোথাও লাগেজসহ সীমান্তে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছেন তাঁরা। একাধিক সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও তাঁদের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।