
মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য রক্ষায় কঠিন পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
অন্তত এখন পর্যন্ত একটা বিষয় নিশ্চিত, এই যুদ্ধে ইরান হারেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভবিষ্যদ্বাণী অযৌক্তিক ও অতি-আত্মবিশ্বাসী বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

অন্তত এখন পর্যন্ত একটা বিষয় নিশ্চিত, এই যুদ্ধে ইরান হারেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভবিষ্যদ্বাণী অযৌক্তিক ও অতি-আত্মবিশ্বাসী বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যার পুরস্কারবিষয়ক একটি বিলের ওপর ভোট দিতে যাচ্ছেন ইরানি আইনপ্রণেতারা।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিরোধীরা একজোট, নেতৃত্ব পরিবর্তনে ইসরায়েলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের আশাবাদী।

ইসরায়েলি সমাজের ভেতরে বিপজ্জনক কিছু ঘটছে, যার পরিণতি পুরো অঞ্চলের জন্যই গুরুতর হতে পারে। গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি সমাজ সচেতনভাবেই প্রতিশোধকেন্দ্রিক এক সহিংস বয়ানের ব্যাপক ঐকমত্য গড়ে তুলেছে—যে ভাষ্য শুধু ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নয়, বরং এ অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধকে উৎসাহিত করে।

ইরান যুদ্ধের মধ্যে নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফরের দাবিকে ইউএই ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর দাবি করেছে, ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এর সময় শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে ইসরায়েলের সঙ্গে 'আঁতাত'কারীদের জবাবদিহিতার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইরানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছে বলে তো আর নেতানিয়াহুর হাত গুটিয়ে বসে থাকার উপায় নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে দুই সপ্তাহের বিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে এখনো অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।

শাহবাগের বিক্ষোভ সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর জেলে থাকার কথা কিন্তু তাঁদের ঔদ্ধত্যে বিশ্ব জ্বলছে। জাতিসংঘের মহাসচিবসহ সকলে পদত্যাগ করা উচিত কারণ যুক্তরাষ্ট্র এটাকে স্বীকার করে না। ইরান আক্রমণ ও সাম্রাজ্যবাদের প্রতিবাদে সমাবেশ আয়োজন করেছে ভাসানী পরিষদ।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যে সুসম্পর্ক ছিল, তাতে এখন টানাপোড়েন দেখা দিচ্ছে।

ইসরায়েলে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমছে, বিশেষ করে ইহুদিদের মধ্যে। জরিপে দেখা গেছে, দ্রুত যুদ্ধবিরতির দাবি বাড়ছে এবং ইরানের শাসন উৎখাতের আশা কমেছে। জনগণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত।

ইরানের বিরুদ্ধেও ‘টাকো ট্রাম্প’ একই রকম হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেবেন যে ইরানি সভ্যতা বলে কিছু থাকবে না।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের দুর্নীতির বিচার আগামী রোববার পুনরায় শুরু হবে। বিচারে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।