
ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের আড়ালে ‘গ্যাংস্টার’ রাজনীতি
দ্বিতীয় মেয়াদে এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এমন এক নতুন ভাষা দাঁড় করিয়েছেন, যেখানে জবরদস্তি, ভয় দেখানো আর চাপ প্রয়োগই হয়ে উঠেছে মূল হাতিয়ার।

দ্বিতীয় মেয়াদে এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এমন এক নতুন ভাষা দাঁড় করিয়েছেন, যেখানে জবরদস্তি, ভয় দেখানো আর চাপ প্রয়োগই হয়ে উঠেছে মূল হাতিয়ার।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিভিন্ন দেশকে হুমকি দিয়ে আসছেন, যা মিত্রদের বিপদে ফেলছে।

ট্রাম্প নিজেও প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সাড়ে নয় হাজার মাইল দূরে’ একটি যুদ্ধের জন্য আমেরিকানরা কেন লড়বে? এমনকি তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রিকেও তিনি ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ বলে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন, তিনি চান না কেউ স্বাধীন হোক।

গত কয়েক মাসে বিশ্বরাজনীতির ছক বদলে গেছে, এর মধ্যে ট্রাম্প-সি চিন পিংয়ের বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির সংকটে আমেরিকা চীনের সাহায্য চাইছে, কিন্তু চীন শক্ত অবস্থান নিয়ে প্রবেশ করছে। তাইওয়ান ইস্যুসহ বড় সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের ট্রাম্প-সমালোচনা দ্রুতই দুই দেশের সম্পর্কচ্ছেদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, শুল্ক আরোপসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মেরৎস কেন এত বড় ঝুঁকি নিলেন, তা নিয়ে বিশ্লেষণ।

ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনার ফলাফল না জানা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে।

ইরানের অভিযোগ, ট্রাম্প আসলে আলোচনাকে ‘আত্মসমর্পণের টেবিলে’ পরিণত করতে চাইছেন

ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধ থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথে হেঁটেছেন। এই কৌশল মূলত নতুন করে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা করা ছাড়াই সংঘাত শেষ করার চেষ্টা।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ শুরু করে ‘ক্যু’ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। লেখায় পাঁচটি সম্ভাব্য কৌশল বিশ্লেষণ করা হয়েছে—যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার পথ। আমেরিকান জনগণের সতর্কতাই এর বড় বাধা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর্দার আড়ালে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর চাপ দিয়েছিল। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, জ্বালানি দাম বাড়া এবং ইরানের প্রতিরোধ ট্রাম্পকে উদ্বিগ্ন করেছিল। পাকিস্তান মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছে যদিও বাধা রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পোপ চতুর্দশ লিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান-হুমকির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি এটাকে ‘সত্যিই অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন এবং কূটনীতির আহ্বান জানান। এরপরই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।