
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছেন ভ্যান্স, তবে কি ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত জেডি ভ্যান্স দৃঢ়ভাবে প্রকাশ্য সমর্থন দেননি। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্টের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত জেডি ভ্যান্স দৃঢ়ভাবে প্রকাশ্য সমর্থন দেননি। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্টের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাতে গুরুতর কর্মীসংকট দেখা দিয়েছে। ইসরায়েল ইনোভেশন অথরিটির জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেক প্রতিষ্ঠানে জনশক্তির ২৫ শতাংশের বেশি কর্মী অনুপস্থিত। এতে পণ্য উন্নয়ন, আমদানি ও বিনিয়োগ সবকিছুতে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

যেকোনো যুদ্ধে শুধু অস্ত্র নয়, সময়ও একটি বড় শক্তি। ক্যালেন্ডার অনেক সময় কামানের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতেও এ বাস্তবতা স্পষ্ট। এখানে তিনটি দেশ শুধু একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে না, তারা লড়ছে সময়ের সঙ্গেও। প্রতিটি পক্ষের নিজস্ব রাজনৈতিক সময়সীমা আছে, আর সেই সময়সীমাই তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

যুদ্ধ মানেই শুধু সীমান্তে গোলাগুলি, ক্ষেপণাস্ত্র বা কূটনৈতিক উত্তেজনার খবর নয়। যুদ্ধের অর্থ আরও বিস্তৃত।

এক মাস ধরে চলছে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত। এই যুদ্ধে কি কেউ সত্যিকার বিজয়ী হবে, নাকি জয়-পরাজয় আপেক্ষিক? হরমুজ প্রণালী ও আন্তর্জাতিক তত্ত্বের আলোকে লেখক বিশ্লেষণ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা গত বুধবার জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে এটা প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধে নিজের অদূরদর্শিতার ফলে ফাঁদে আটকে পড়েছেন ট্রাম্প। ইরানের তরুণ প্রজন্ম শাসকদের মৌলবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অর্থনৈতিক সংকটে জনক্ষোভ তুঙ্গে। ট্রাম্পের সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চ্যালেঞ্জ।

ইরান যুদ্ধে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নিরাপত্তার মিথ ভেঙে পড়েছে। আমেরিকান সামরিক উপস্থিতির উপর নির্ভরশীলতা এখন প্রকাশ করে দিয়েছে জোটের অসমতা। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখের হামলা এই বাস্তবতা সামনে তুলে ধরেছে।

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত নয়টি উড়োজাহাজ ভূপাতিত বা ধ্বংস হয়েছে। বিবিসির তালিকায় ৫ এপ্রিল থেকে ২ মার্চের মধ্যে এফ–১৫ই, ই-৩ সেন্ট্রি, কেসি-১৩৫সহ বিভিন্ন ধরনের বিমানের ঘটনা উল্লেখ আছে। ছবি বিশ্লেষণ ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে কনডম তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

ইরানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা যেতে পারে। এ ঘটনা এমন এক বিশ্বে মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে, যেখানে কোনো দেশই আর যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য বা নেতৃত্ব মেনে নিতে রাজি নয়।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘অন্তত ৪২টি বিমান’ হারিয়েছে