
গত বছর যত কর্মী বিদেশে গেছেন, তার ৯০ শতাংশ গেছেন ৫ দেশে: রামরু
গত বছর বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে গেছেন। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ কর্মী গেছেন মাত্র ৫টি দেশে।

গত বছর বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে গেছেন। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ কর্মী গেছেন মাত্র ৫টি দেশে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরকালে তাঁর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় শ্রম অভিবাসন প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা প্রবাসী কর্মীরা। আমরা তাদের গর্ব করে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলি। কিন্তু একটু বুকের ওপর হাত রেখে ভাবলে প্রশ্ন জাগে-আমরা কি সত্যিই তাদের জন্য একটি ন্যায্য, নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেরেছি?

আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও আসন্ন সফরে অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গত বসন্ত সেমিস্টারে আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থী ভর্তি গড়ে ২০ শতাংশ কমেছে। কঠোর ভিসা ও অভিবাসন নীতি এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে ৮৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। এতে উচ্চশিক্ষা খাতে আর্থিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দেশভাগ, ভাষা, অভিবাসন, নদী, শ্রম, আত্মীয়তা, স্মৃতি ও শোক—এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বরাবরই পশ্চিমবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ভিসা পাওয়া কঠিন হচ্ছে। কারণ, অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং আবেদনপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোপ লিও চতুর্দশের ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসন নীতির সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ‘দুর্বল’ বলে আক্রমণ করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে এবং সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, ‘আমি এই পোপের একদমই ভক্ত নই।’ পোপও ট্রাম্পের পারমাণবিক হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন।

প্রবাসী শ্রমিকরা বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, কিন্তু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় তারা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কুমিল্লার গোলটেবিলে দালালদের নিয়ন্ত্রণ, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, দক্ষতা উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিয়ে জোরালো সুপারিশ উঠেছে। সরকারের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার খোলা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছ নিয়োগ নিয়ে দুই দেশের ফলপ্রসু বৈঠক হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে এআই-ভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা চালু এবং শ্রমিক শোষণ রোধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়। বৈঠকে বাণিজ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনাও হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসন বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান।