
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই লেবাননে একের পর এক হামলা, কাটল না অনিশ্চয়তা
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরায়েলের। গতকাল এক দিনেই নিহত অন্তত ২৫৪।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরায়েলের। গতকাল এক দিনেই নিহত অন্তত ২৫৪।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বনেতারা স্বস্তি পেলেও ট্রাম্পের খামখেয়ালি আচরণে আস্থা হারিয়েছেন। এ যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে। নেতারা কূটনীতির মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি চাইছেন।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়ে শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু করবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ১০ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে ভিত্তি করে চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পার্সির মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ছাড়া ট্রাম্পের সামনে ভালো কোনো বিকল্প ছিল না। আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পুরো যুদ্ধ হলে বিশ্ব জ্বালানি সংকটে পড়ত এবং ট্রাম্পের সরকার ধ্বংস হতো। চুক্তিটি ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে হবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার বিবৃতি জারি করেছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। ওয়াশিংটনের প্রতি চরম অবিশ্বাস নিয়ে আলোচনায় বসছে তেহরান। ‘হাতের আঙুল এখনো ট্রিগারে’—শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পরিষদ।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, হুমকির মধ্যে ১৭টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি যুদ্ধাপরাধ।

ইরানে হামলার বিরোধিতায় পদত্যাগকারী যুক্তরাষ্ট্রের জো কেন্ট বলেছেন, ট্রাম্পের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি আমেরিকাকেই বিপদে ফেলবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরাশক্তির অবস্থান ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি গঠনমূলক আলোচনার পথে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্স-এ পোস্ট করে ট্রাম্পকে ইরান চুক্তির সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে যুদ্ধবিরতি পালনের আহ্বানও দিয়েছেন। এতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

ইসরায়েল ইরানের সাধারণ নাগরিকদের ট্রেন ও রেললাইন এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে, যা বড় হামলার পূর্বসংকেত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হতে চলেছে এবং ইরান প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। যুদ্ধে ইরানে ২৭৬ জন নিহত।

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন সিভিল-মিলিটারি ভারসাম্যহীনতা পরাশক্তির পতন ডেকে আনছে বলে মনে করছেন লেখক। ঐতিহাসিক উদাহরণ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নেতৃত্বের ভুলগুলো তুলে ধরেছেন। যুদ্ধ এখন মাস পেরিয়ে গেছে, পরাজয় অনিবার্য।

ইরানের কুর্দি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র সহায়তা পাওয়ার ট্রাম্পের দাবি অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, তারা কোনো নতুন অস্ত্র পায়নি। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক উঠেছে।

ইরানে মার্কিন সেনা উদ্ধারকে ইস্টারের অলৌকিক ঘটনা বলে ট্রাম্পের বক্তব্যে ধর্ম-রাজনীতি মিশ্রণ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। সমালোচকরা যুদ্ধকে ধর্মীয় ছোঁয়া দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কেয়ার ও গ্রিনসহ বিভিন্ন পক্ষ তীব্র সমালোচনা করেছে।