
তেলের মূল্যবৃদ্ধি: নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের কথা ভাবছে কি সরকার
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ঘিরে উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাত এমনিতেই অস্থির। তেল আমদানি থেকে শুরু করে সরবরাহব্যবস্থা—সব জায়গায় চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তাদের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক রদবদল করেছে। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশও জারি হয়েছে।

চীনের স্যাটেলাইট সাম্প্রতিক যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে শক্তিশালী সক্ষমতা দিয়েছে।

জরুরিভাবে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ চায় সরকার

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরবি, জাপানে জাপানিজ, ইউরোপে গেলে ইংরেজি ভাষা জানতে হবে। খুব পারদর্শী না হলেও ন্যূনতম মান বজায় রাখতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের প্রাক্-বাজেট আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো খড়্গ আসবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে, যা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত করেছে। বক্তারা করজাল সম্প্রসারণ, ব্যাংকের ভঙ্গুরতা ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ইরানের রাষ্ট্রদূতকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশমুখী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। ইরান ইতিমধ্যে ছয়টি বাংলাদেশমুখী জাহাজের অনুমোদন দিয়েছে।

এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসী আয় ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত শেষ তিন দিনে ২৪ কোটি ডলারের বেশি এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং রমজানের প্রভাবে প্রবাহ বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশে জ্বালানিনিরাপত্তা নিয়ে কোনো সরকার চিন্তা করেনি। বিগত সরকারগুলো বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বয়ানের রাজনীতি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় বিএনপি সরকার কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য ভেঙেছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশের দেশগুলো এখন ‘কংগ্রেস ফর হরমুজ’ উদ্যোগ নিয়ে সবার মুখ রক্ষা করতে পারে। এতে যুদ্ধ থেকে বের হওয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

১৯৭০–এর দশকের জ্বালানির সংকট ছিল মূলত তেলের সংকট। ১৯৭৩ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিসর ও সিরিয়ার ইয়োম কুপ্পির যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ অনুভব করে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যার পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামাবাদের সঙ্গে দুই পক্ষের আস্থা, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক এর মূল কারণ। তবে এই শান্তি এখনো নড়বড়ে।