
নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: দরকার জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ একটি তাৎপর্যপূর্ণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, যা হয়ে থাকতে পারে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ একটি তাৎপর্যপূর্ণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, যা হয়ে থাকতে পারে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

দেশে ধর্মীয় চরমপন্থা চর্চার ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে। অনলাইন-অফলাইন উভয় স্পেসে এখন তা দৃশ্যমান। চরমপন্থী চিন্তার প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের সমাজে যখন জ্ঞান, বিজ্ঞান ও দর্শনচর্চায় খরা চলছে, তখন ফরাসি বিপ্লবের পূর্বক্ষণে জনগণের প্রস্তুতির পর্বটি খেয়াল করা জরুরি।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম জানান, এই ভাসান পানির আন্দোলনই তাঁকে শিখিয়েছে, লাঠির জোরে কিছুদিন অধিকার আদায় করা গেলেও স্থায়ী করতে গেলে আইন বদলাতে হয়।

বাংলাদেশ আবার একটি বড় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। এখন রাজনীতি শুধু সভা–সমাবেশ, লিফলেট–ব্যানার আর টিভিতে সীমাবদ্ধ নয়। আলোচনা অনলাইনে অনেক আলোচনা হয়। এই জায়গায় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী) বড় ভূমিকা রাখছেন।

চা-শ্রমিক ভীম রুদ্রপাল ব্রিটিশ আমলে জীবিকার তাগিদে পরিবার নিয়ে এ দেশে আসেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে তিনি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বিনন্দপুরে জমি কেনেন। সেই থেকে পরিবারের সবাই একান্নে থাকা শুরু করেন। এখনো সেই ধারাটি টিকে আছে।

কী ভয়ানক! দেশে, সমাজে একজন মানুষকে ৩০ দিনের মাসে কমপক্ষে ৫০ জন শত্রুর ভার বহন করে জীবনযাপন করতে হয়।

আমরা দেখছি, কিছু রাজনৈতিক দল ও এর নেতারা মিছিলে মিছিলে ফাঁসি চাচ্ছেন,‘জবাই কর’ ধরনের স্লোগানকে স্বাভাবিক করছেন। এর ফলে সমাজে মানুষ মনে করতে থাকে, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান মানেই কাউকে খতম করে দেওয়া।

প্রতি বছরের মতো গত ৩১ ডিসেম্বরও দিবাগত রাতে ঢাকাসহ দেশের অন্য শহরগুলোতে যা ঘটল, তাকে কোনোভাবেই উৎসব বলা চলে না।

৯৯৯–এ কল করে যদি ৫ মিনিট ধরে আমাদের বোঝাতে হয়, আমি কোন গলির কোন পানির ট্যাংকের নিচে, তাহলে তো সেটা আর ইমার্জেন্সি কল থাকল না।

পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র সর্বত্র আধিপত্যবাদের সংস্কৃতি। এমন সংস্কৃতিতে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা সহজ কাজ নয়। তবু মফস্সল থেকে রাজধানী অবধি কিছু মানুষ প্রশ্ন করার জন্য দাঁড়িয়ে যান। কখনো কখনো ফলাফলটি নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে।

একটা সময় ছিল যখন সমাজ, ব্যাংক, এমনকি পরিবারের কাছেও ফ্রিল্যান্সিং মানে ছিল ‘ছেলেটা বা মেয়েটা রাতে জেগে কী যেন করে!’ অর্থাৎ, তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ছিল না। এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড আমাদের তরুণদের বিনিদ্র রজনীর অফিশিয়াল বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এই কার্ড একজন ফ্রিল্যান্সারের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা পরিচয়সংকট দূর করবে।