
পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত এসআইআর-ই কি তাহলে তৃণমূলকে হারিয়ে দিল, কী বলছে তথ্য-উপাত্ত
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে প্রায় ৯১ লাখ নাম।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে প্রায় ৯১ লাখ নাম।

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল গোছানোর জন্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছেন আয়ুষ্মান, অন্নপূর্ণা ভান্ডারসহ উন্নয়নমূলক একগুচ্ছ কর্মসূচি।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষতির বিনিময়ে হলেও এই উত্থানের পেছনে নীরবে বড় ভূমিকা নিয়েছে বাম ভোটারদের একাংশ। শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে লুকিয়ে আছে ‘লালের’ ছাপ।

নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রভাব থাকে; আর যখন সেই নির্বাচন সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে হয়, তখন তার পররাষ্ট্রনীতিগত প্রভাবও তৈরি হয়।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পালসহ পাঁচ মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। তাঁদের দপ্তর বণ্টন এখনো জানা যায়নি।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুরো দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন এবং উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি দেন। আর জি কর ও সন্দেশখালী কাণ্ডে কমিশন গঠনের কথাও বলেন।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জয়ের পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ দেখিয়েছে।

বিজেপির পৃথক তিনটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা।

অমিত শাহের নেতৃত্বে রোড শো করে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়বেন। রোড শোর সময় তৃণমূল সমর্থকরা বিক্ষোভ করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।

আর জি কর মেডিকেল কলেজে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার সেই চিকিৎসকের মা নির্বাচনে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করেন।

ভারতে নিরীক্ষার নামে যে ভোটার তালিকা প্রস্তুত হলো, তারও উদ্দেশ্য নির্বাচনের ফলাফল আগেভাগে নিশ্চিত করা। এই ভোটার তালিকা থেকে যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই হয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নয়তো নিম্নবর্গের মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে জেরিম্যান্ডারিংয়ের ফলে যারা অর্থপূর্ণভাবে ভোট প্রয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তারাও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় আফ্রিকান-আমেরিকান বা দরিদ্র বহিরাগত।