
পুনরাগমন
নিজেকে দেখে এত বড় ধাক্কা খেল খায়রুন, ঠিক আঠারো বছর আগের ধাক্কাটার মতো।

নিজেকে দেখে এত বড় ধাক্কা খেল খায়রুন, ঠিক আঠারো বছর আগের ধাক্কাটার মতো।

সে দেখতে পায় এই শাবককে ঘিরে তার অপার সম্ভাবনা, অজস্র ‘কনটেন্ট’। বেড়ালখানা তুলে নেয় দুই আঙুলের ডগা।

ইয়োশিয়া নিজেকে প্রশ্ন করে। আমি কি এমন কোনো বন্ধন নিশ্চিত করতে চাইছি, যা আমাকে এখন এখানে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে?

গোত্রপ্রধানের হুমকি ও পৈশাচিক হাসি তাদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ ও আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিল।

মনে পড়ছে দাঁড়াশ সাপের যুদ্ধনাচের দৃশ্য। মিয়াবাড়ির উঠানে বেদেরা দেখিয়েছিল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সাপের লড়াই।

তাওফিক ওই গ্রামে কত দিন ছিলেন তা মনে নেই। আর ওই ঘটনা কততম দিনে ঘটেছিল, তা–ও ঠিক বলতে পারবেন না। তবে বাঁশহাটিয়া অবস্থানের চতুর্থ বা পঞ্চম দিন হতে পারে।

গত ছয় মাসে সে কোনো বন্ধুকে রেস্তোরাঁয় নিয়ে খাওয়ায়নি। কাউকে সিগারেট গিফট করেনি। মদ খাওয়ায়নি কাউকে। তাই বন্ধুদের কাছেও বুঝি সে আর আগের মতো প্রিয় নেই।

কাইয়ুম তাকাল! আবু মুসার মুণ্ডু কি ছাদ থেকে ঝুলছে? আবু মুসা ডাকছিল ‘নানা’? বাতেন মামার মুণ্ডু ছাদ থেকে ঝুলছে। বাতেন মামা বললেন, ‘শুভ জন্মদিন।’

ভোলাও তাই আর কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। নিজের স্মৃতি ফিরে পেলেও তা জানায়নি। তবে শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ার পর কুলিগিরি শুরু করেছিল। কাল্লু সর্দার তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কুলির কাজ।

জুনকো কিছুক্ষণ ভেবে দেখে। কিন্তু বুঝতে পারে না মিয়াকি কী বোঝাতে চেয়েছে। তারপর জুনকো বলে, ‘কখনোই ভাবিনি আমি কীভাবে মরব। তা নিয়ে ভাবতেই পারি না। শুধু তা-ই নয়, আমি কীভাবে বাঁচব, সেটাই তো জানি না।’

‘আমি ইছামতী কলেজ থেকে বলছি। আপনাকে আমাদের এখানে এক্সটার্নাল পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আপনি কি আসবেন?’

সবাই অনায়াসে নিজের জন্মতারিখ, মাস, বছর বলে যায়। হালিমা গভীর বিস্ময়ে সবাইকে দেখে। ওদের প্রত্যেকের একটা জন্মদিন আছে। শুধু ও জানে না ওর জন্ম কবে হয়েছিল!