
‘ধান নাই, মানও নাই, আমরার একটা ঈদ নিরানন্দে গেল’
হাওরে ডুবে যাওয়া বোরো ধান পানির নিচ থেকে ‘আকি’ দিয়ে তুলছেন কৃষকেরা, তবে অধিকাংশেরই ক্ষতি পোষানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।

হাওরে ডুবে যাওয়া বোরো ধান পানির নিচ থেকে ‘আকি’ দিয়ে তুলছেন কৃষকেরা, তবে অধিকাংশেরই ক্ষতি পোষানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে এসে পানিতে পড়ে তামিম ইসলাম (১৭) নামের এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় এবারের অতিবৃষ্টিতে হাজার হাজার কৃষকের বোরো ধান হাওরের পানিতে তলিয়ে গেছে, যা কোরবানির ঈদ উদ্যাপন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্লিপ্তভাবে জবাব দেন মহরম আলী, ‘ইতা কি আর আমরা পাইতাম! কেউ নামও লিখে নিয়ে যায় নাই।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এবার কিশোরগঞ্জে অতিবৃষ্টি আর ঢলের কারণে প্রায় ৪৭ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরে পানি আবার বাড়ছে। গত তিন দিনে ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা কৃষকদের অবশিষ্ট বোরো ধান তুলতে নতুন বিপাকে ফেলেছে। আগামী দিনগুলোতে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধানের ফসলহানির কারণে কৃষকরা নিজেদের খাদ্যের পাশাপাশি গরুর খড়েরও সংকটে পড়েছেন। অনেকে বর্ষায় গোখাদ্যের জন্য চিন্তিত, কেউ কেউ গরু বিক্রির পরিকল্পনা করছেন। সরকারি সহায়তার আশা জানিয়েছেন কৃষকরা।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে পানির তলায় তলিয়ে যাওয়া অন্যের জমির ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে একদল লোক। স্থানীয়রা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে পুলিশ হাজির হয়ে সতর্ক করেছে। অতিবৃষ্টিতে হাওরে ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুনামগঞ্জের হাওরে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে বোরো ধান, ক্ষীরা ও মরিচির ফসল নষ্ট হয়েছে। কৃষক আবদুল জাহানের ১৬ বিঘা ধানসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতিতে ঋণের বোঝা বেড়েছে। জেলায় মোট ধানের ক্ষতি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাশিমপুরে অসময়ের পানিতে হাজার হাজার কিয়ার ধান তলিয়ে গেছে। কৃষক ইয়াওর মিয়া বলছেন, ‘যেগুলো ধান পেয়েছি, আজ খেতাম না ঋণ দিতাম।’ সারা বছরের খোরাকি ও আয়ের আশা এখন হাহাকারে পরিণত হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে খলায় পানি জমে যাওয়ায় হাওরের কৃষকরা অলওয়েদার সড়কে ধান শুকাচ্ছেন। আবদুর রহিম বলেন, বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খলাগুলোতেও পানি উঠে গেছে। রোদের সুযোগে সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন বৃষ্টির আগে ধান সংরক্ষণে।

অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের বিপুল ফসলহানি হয়েছে। ঋণের চাপে অনেকে খেত-বাড়ি বিক্রি করে দেনে ভাবছেন। জেলায় ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর ধান তলিয়ে গেছে, ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকার।