
সংস্কার না হলে পুরোনো সংকটেই ফিরতে পারে দেশ
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও এই পরিষদ গঠিত হয়নি।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও এই পরিষদ গঠিত হয়নি।

বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ সংসদে এনসিপিকে ‘জামায়াত জেনারেশন’ এড়িয়ে জেন-জিকে প্রতিনিধিত্ব করার পরামর্শ দিয়েছেন। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, সংবিধান বাতিলের প্রক্রিয়া এবং গণভোট নিয়ে তিনি তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছেন। ১৭ বছরের কষ্টের পর সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে তার মতামত।

সভায় হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নতুন সরকারের কাছে গণভোটের রায়ের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল জনগণ।

জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা গণভোটের রায় উপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এবং রাষ্ট্রের বৈধতা সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যের হলফনামায় বিভিন্ন তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে ইসির দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন করেছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি, জামায়াত জোটের সদস্যদের তথ্যহীনতার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও সংবিধান লঙ্ঘনের বিষয়েও মতামত জানিয়েছেন তিনি।

খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বিএনপিকে বিপ্লবের হুঁশিয়ারি দিয়ে সংবিধান সংস্কারসহ চারটি দাবি জানিয়েছেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি সংকট তৈরি করেছে, সমাধানও তাদেরই করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি পরিষদের বৈঠক আহ্বান করতে পারেন। ১১ দল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন ছড়াবে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সংবিধানের নাম করে গণভোটের রায় অস্বীকার করছে এবং এতে রাজনৈতিক আস্থার সংকট দেখা দেবে। তিনি দ্রুত গণরায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের সভায় তিনি বিএনপির দ্বিচারিতা এবং অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির প্রতিনিধিদের শপথ না নেওয়ার ফলে দলটির ও দেশের জন্য নতুন সূচনা যথার্থ হলো না।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো প্রথম জটিলতা। বিএনপি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে এ ধরনের শপথের উল্লেখ নেই।.

বাংলাদেশের রাজনীতির এই পর্যায়ে এসে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে আমাদের সংকটের কেন্দ্রবিন্দু সংবিধান। গণ-অভ্যুত্থানের পর যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, সেটাকে কীভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে স্থিতিশীল ও টেকসই রূপ দেওয়া যায়, সেই প্রশ্নটাই এখন প্রধান বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে আমরা এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির (পিআর) ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা সংস্কার কমিশনের এই প্রস্তাবেতে বিএনপি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে।