
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘নিরাপদ আশ্রয়’ ভাবমূর্তি ভেঙে পড়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

কর্মীদের উদ্ধারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এ প্রথম কোনো চালকবিহীন নৌযান বা সি ড্রোন ব্যবহার করা হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৯টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এর অধিকাংশ হামলাই মাঝআকাশে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।

সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, একটি স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও একমুখী হামলার জন্য ব্যবহৃত দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।

যদিও ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তবু উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সমুদ্রের মাইন এই প্রণালিকে বিপজ্জনক করে রেখেছে।

প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে ইরান। এমনকি গত এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতির মধ্যে ড্রোন বানানোও শুরু করে দিয়েছে। এমন খবর পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চরম যুদ্ধ ছড়াতে পারে। কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত।

মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র বাংকার দ্রুত মেরামত করছে ইরান। যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমলেও এখনো উল্লেখযোগ্য লঞ্চার ও ড্রোন রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অস্ত্র তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে চীন, হংকংসহ ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে সাহায্যকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রেক্ষাপটও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রপ্তানির একমাত্র পথ। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে। আইআরজিসি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।