
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের পরও যে কারণে শঙ্কা
সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

কিন্তু এমন এক মুহূর্তে গতকাল ভোরেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একাধিক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যার পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামাবাদের সঙ্গে দুই পক্ষের আস্থা, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক এর মূল কারণ। তবে এই শান্তি এখনো নড়বড়ে।

হোটেলের লবি–সংলগ্ন একটি ছোট কনফারেন্স রুম, যার নাম ‘ফয়সালাবাদ রুম’, সেখানেই মূল আলোচনাগুলো হয়েছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে যুদ্ধবিরতির জন্য। ট্রাম্প এক সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির আশা দিয়েছেন, তবে হুমকিও দিয়েছেন। ইরানের অভ্যন্তরীণ সমালোচনা ও দাবির পার্থক্য চুক্তির পথে বাধা।

ইসলামাবাদে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামানোর জন্য আলোচনা করছেন। হরমুজ প্রণালী খোলা এবং সরাসরি সংলাপের পথ তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে ফোনালাপ করে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।

ইরানের ওপর দুই সপ্তাহের হামলা স্থগিতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই নিজেদের বিজয় দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটাকে ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ বলেছেন, যখন ইরান তাদের ১০ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করানোর কৃতিত্ব নিয়েছে। ‘আমরা ৩৮ দিনের মধ্যে আমাদের মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছি।’

এখনো কোনো পক্ষই ভবিষ্যৎ আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি; বরং পাকিস্তান ও মিসর পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা। তবে বৃহস্পতিবার দিনভর তেলের দাম ওঠানামা করেছে। আজ শুক্রবার সকালে দাম আরও কমেছে।

সমঝোতা স্মারক সই হতে না হতেই আবারও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। এতে এই সমঝোতা চুক্তি কতটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে, তা প্রকাশ পেয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতায় ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগের বিনিময়ে ইরান ২ হাজার কোটি ডলার ছাড় পেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের আশা জাগছে এই আলোচনায়। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতা করছে।