
জামায়াত আসলে জিতেছে, না হেরেছে
বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলো। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা আর কয়েকটি দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাকে বাদ দিলে সামগ্রিক চিত্র তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ।

বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলো। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা আর কয়েকটি দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাকে বাদ দিলে সামগ্রিক চিত্র তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ।

যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করতে বিজিবি সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক।

নির্বাচনের পর কয়েকটি স্থানে সহিংসতার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে, তবে ফেসবুকে এমন আরও খবরে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। কিন্তু এসব ঘটনা যাচাই করে সব কটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

প্রার্থীরা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু ভোটারদের মনে উন্নয়নের চেয়ে বেশি চিন্তা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভয়ভীতি, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকি, কালো টাকা বিতরণ এবং সাইবার হামলার অভিযোগ তুলেছেন খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারণা অনেকটা জমে উঠেছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয় এমন কোনো অঘটন না ঘটলেও নিরাপত্তা ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে জনমনে বড় শঙ্কা রয়েই গেছে।

রোববার কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভা এলাকায় গণসংযোগকালে হামিদুর রহমান আযাদ এ মন্তব্য করেন।

সিইসি নাসির উদ্দীন দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সব নির্বাচনেই সহিংসতা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা, মব সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ না হওয়ায় প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, সেটি নিরসনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেছেন, যে কোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না, আইন সবার জন্য সমান প্রযোজ্য হবে।

বহুপ্রতীক্ষার ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হলো। স্বাধীনতার আগে এ অঞ্চলে পাঁচটি বড় নির্বাচন হয়। স্বাধীনতার পর হলো ১৩টি। এই ১৮টি নির্বাচনের মধ্যে সেরা ও কম বিতর্কিত ছিল ১৯৭০-এর নির্বাচন। সেটি ছিল নতুন সংবিধান প্রণয়নের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের শেষে যে সংসদ গঠিত হবে, তারও আরেক নাম সংবিধান সংস্কার পরিষদ। এই দুই নির্বাচনের মিলের দিক এটি। অন্য একটি মিলের দিক—উভয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত রক্তাক্ত সহিংসতা বেশ কম। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের কোনো উপস্থিতি ছিল বলে দেখা যায়নি।