
চীনে তেলের চাহিদা কমছে, কিন্তু অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে না
চীন তার চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে। তারা ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা—এত কিছুর পরও চীনের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে বেশ স্বাভাবিক।

চীন তার চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে। তারা ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা—এত কিছুর পরও চীনের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে বেশ স্বাভাবিক।

ঈদের লম্বা ছুটির পর শিল্পকারখানা খুলেছে। ফলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহে তেলের চাহিদা বেড়েছে। দ্রুত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতি না হলে উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়ার শঙ্কা।

রাশিয়ার ‘আনাতোলি কোলোদকিন’ ট্যাংকার ১ লাখ মেট্রিক টন তেল নিয়ে কিউবার মাতানজাস বন্দরে পৌঁছে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও মস্কো কিউবার পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। জ্বালানিসংকটে জর্জরিত কিউবায় এ তেল সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ।

মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে তিনটি ট্যাংকে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার মজুত তেলের গরমিল ধরা পড়েছে। ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল আটটায় ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ জাহাজটি বন্দরের জেটিতে প্রবেশ করে। জাহাজটিতে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল রয়েছে। তেল সরবরাহ করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ উভয় সংকটে ফেলেছে জাপানকে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আহ্বান জানাচ্ছে ইরানে হামলায় যোগ দিতে; অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান তেল সরবরাহ বন্ধ করায় ভুগতে হচ্ছে জাপানকে। যুদ্ধে না জড়িয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়ই সংকট উতরে যেতে চাইছে টোকিও।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে, সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ছে, দাম বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ উভয়ই কমে গেছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার–নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা হলেও ২ হাজার ২০০ টাকা নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।

মানিকগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকটে পেট্রলপাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, পরিবারের সদস্যরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। সরবরাহ কম হওয়ায় প্রতি বাইকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ওপেকভুক্ত ও তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদক ইরানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকেই সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি আছে।

আগামী জুন মাসে সরবরাহ হবে এমন ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বৃহস্পতিবার বেড়ে এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ দশমিক ৪১ মার্কিন ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ।