
‘যা আয় হয়, খায়ে কিছু থাহে না’
১২ বছরের মারুফ মিনিবাসে সহযোগী হয়ে সংসার চালাচ্ছে, ৬০+ জয়নাল আবেদীন মিন্তির কাজ করে টিকছেন, আবদুল হালিম চাকরি হারিয়ে পান বিক্রি করছেন। রাজধানীর ব্যস্ততার মাঝে তাঁদের জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তা। ‘যা আয় হয়, খায়ে কিছু থাহে না’।

১২ বছরের মারুফ মিনিবাসে সহযোগী হয়ে সংসার চালাচ্ছে, ৬০+ জয়নাল আবেদীন মিন্তির কাজ করে টিকছেন, আবদুল হালিম চাকরি হারিয়ে পান বিক্রি করছেন। রাজধানীর ব্যস্ততার মাঝে তাঁদের জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তা। ‘যা আয় হয়, খায়ে কিছু থাহে না’।

রাজবাড়ী–বালিয়াকান্দি সড়কের ধারে গরমে তালের রস বিক্রি করে পথচারীদের তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন স্থানীয় গাছিরা। এতে তারা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিষ্কার পাত্রে রস সংরক্ষণ করলে কোনো ঝুঁকি নেই।

জামালপুরের ফুটপাতের কলা বিক্রেতা আবদুল মালেকের আয় কমেছে এবং সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পাইকারি বাজার থেকে বাকিতে কলা নিয়ে বসছেন, কিন্তু বিক্রিও কম।

সাঁওতালপল্লির নীলা হাসদার সোনার নাকফুলে জড়িয়ে আছে বড় চাচির ভালোবাসা, দারিদ্র্য আর প্রজন্ম ছুঁয়ে যাওয়া এক আবেগঘন জীবনগল্প।

ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে জামালপুর শহরে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন ৬৫ বছরের হেলাল উদ্দিন। আবহাওয়া নয়, জীবনে টিকে থাকার লড়াইয়ে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ অভাব।

গলায় ঝুলছে ছোট্ট ঝুড়ি, তাতে বাদাম, বুট, পপকর্ন। সেই ঝুড়ি নিয়ে ধীর পায়ে হাঁটা মানুষটির নাম গোলাম মোস্তফা (৪০)।

খুলনায় সড়ক যোগাযোগ অনুন্নত হওয়ায় মোটরসাইকেলই ভরসার যান। হাজারো মানুষ এই পেশায় জড়িত। কিন্তু জ্বালানিসংকট তাঁদের জীবনযাত্রাকে ওলটপালট করে দিয়েছে।

আবদুস সামাদের বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামে। তিনি প্রতিদিন উপজেলার নওয়াপাড়া বাজার এবং নওয়াপাড়া রেলস্টেশনে ঘুরে ঘুরে পাঁপড় বিক্রি করেন।

রংপুরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী আরিফ হোসেন চাকরি ছেড়ে ঘুরে কফি বিক্রি করে মাসে ২৮-৩০ হাজার টাকা লাভ করছেন। বেসরকারি চাকরির কম বেতনে কষ্ট পাওয়ার পর ইউটিউব ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এই পথ বেছে নেন। বেকার যুবকদের জন্য তাঁর কাজ অনুকরণীয় বলে মনে করছেন স্থানীয় আইনজীবী দিলরুবা রহমান।

২৫ বছর সিঙ্গাপুর প্রবাসের পর ময়মনসিংহের ভালুকার আশরাফ উদ্দিন অল্প পুঁজিতে মাশরুম চাষে লাভের মুখ দেখেছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তায় তিন মাসে ১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩০-৩৫ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। প্রবাসের কষ্ট ভুলে নতুন স্বপ্ন বুনছেন তিনি।

বসন্তের এই সময়ে সুন্দরবনে ফুটেছে খলিশা, গরান, পশুর আর হারগোজাসহ রংবেরঙের ফুল। প্রাকৃতিক এমন আয়োজনের মধ্যে মধু আহরণের মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় আছেন মৌয়ালেরা।

‘এখনই ফলাফল চাই’—এমন মানসিকতা আমাদের সবার মধ্যেই আছে। প্রশ্ন হলো, এটি সামলাব কীভাবে? পবিত্র কোরআন এ প্রশ্নের চমৎকার সমাধান দিয়েছে।