
সব কথা কে বলতে পারে
তোমার দেহাতি অবয়ব সুপ্রাচীন দেয়ালের মতো, আদিম বৃক্ষের মতো স্থির,

তোমার দেহাতি অবয়ব সুপ্রাচীন দেয়ালের মতো, আদিম বৃক্ষের মতো স্থির,

উটপাখি আঁকছিলাম কাইল কিংবা মাঝারি একটা মরা প্রবালের ওপর বসি পা দুলাইতে দুলাইতে

হাত ধরে হেঁটে গিয়ে এই শীতে কুয়াশা রুমাল ওড়ানোর কথা ছিল

নব্য নগদ আয়তনের ভারে অথবা ধারে ফালা ফালা দেহবৃক্ষ—

শীত এলে পিঠা আর কুয়াশার ঘ্রাণ নদীতীর, বক পাখি, ভোরের উড়ান

তার জ্বলন্ত লাশ নিয়ে উল্লাস করেছে মানুষ এই বেইনসাফের রাস্তায় কবিতার মতো হেঁটেছিল হাদি

লাজুক গুইসাপ শীতের সংশয় নিয়ে আস্তে-ধীরে পার হয় বনপথ।

প্রতিবার শীতের শিরোনামটা আমি তিনজনকে বলি হৃৎপিণ্ড কাঁপানো এবার বাতাসেই বললাম: তিনে—

শোনো—জ্যোৎস্নার টুপি পরা অভিসারী ঘুঘুদের ধূলিপিণ্ড আয়না—রাস্তা পেরোলেই দেখবে একটি স্বপ্ন দীক্ষিত মেধাবী বিড়াল আপেল খাচ্ছে একাকী।

কথা-নীরবতার মাঝে প্রবাহিত ছোট নদীর মতো স্বপ্নগ্রস্ত জীবনের ছবি। আয়নার মায়া, হাসির স্মৃতি ও মধ্যরাতের নীরবতায় ঘেরা ভাবাতুর মুহূর্ত। এলাচের গন্ধে ভালোবাসা জাগিয়ে নর্দমার পাশেও বেঁচে থাকার কবিতা।

গভীর আদিবাসী ছায়াবন সবুজ ছিঁড়ে উপড়ে ফেলেছে অনেক অভিবাসী মুঠি। পাহাড়ের কঙ্কাল পড়ে আছে বুকে লক্ষ দাঁতের দাগ–আঁচড় গাছে গাছে কুঠার ও কষ অদূরেই নয়া টাউনশিপ— মাটিতে ভরাট পথ রিসোর্ট বাজার নতুন কালভার্টে ঝিরি বুজে গেছে।

কেন আমি মরতে যাব, কেন সেধে মারা পড়ব সকালে সন্ধ্যায়। আমার ছোট্ট একটা প্রাণ, টুপ করে ঝরে পড়তে পারি। সে–ও এক মায়ের কোলেই ফেরা হবে। মায়ের জঠরে ছিলাম আমি, মৃত্যুরও জঠর আছে। মৃত্যুও মা আমার। যাকে কোনো দিন দেখিনি। জানি দেখব। প্রতিটা মুহূর্তে সে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। দেখা তো হবেই।