
হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
দেশে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু এবং হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

দেশে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু এবং হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও এর ফলে শিশু মৃত্যুর সাম্প্রতিক মিছিল জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশ যখন টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগকে কার্যত নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে, তখন গত কয়েক মাসে কয়েক শ শিশুর প্রাণহানি কেবল স্বাস্থ্য সংকট নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামে এত আক্রান্ত ও মৃত্যু নেই। ২০২৪ সালে ২৪৫ জন এবং ২০২৫ সালে ১২৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

এ পর্যন্ত হামে ২৬৪ শিশুর মৃত্যু। কিন্তু আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক শিশুর শারীরিক পরিস্থিতি কী, তা জানা যাচ্ছে না।

আসক বলেছে, প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের মৃত্যু শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রক্ষায় ব্যর্থতারও প্রশ্ন।

টিকাদান কর্মসূচির গাফিলতির কারণে হামে মার্চমাসে ৫৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার রাজনৈতিকীকরণ, জনবলসংকট ও টিকার ঘাটতি পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহিতে আনতে হবে।

বাংলাদেশে হামে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর হামে মৃত্যু নিশ্চিত এবং ২০৫ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে হামে সাড়ে তিনশতের বেশি শিশুর মৃত্যু হলেও কিছু অভিভাবক ভুল ধারণায় টিকা দিচ্ছেন না। রাজধানীর গাজী বস্তিতে এমন অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সচেতনতা তৈরির জন্য ব্যাপক প্রচারণার পরামর্শ দিয়েছেন।

হামে শিশুমৃত্যু ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু টিকা ক্যাম্পেইনে এখনো অনেক শিশু বাদ পড়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা ও প্রচারের ঘাটতি চিন্তার কারণ। সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

হামে মৃত ৬০ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪০% শিশু হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মধ্যে মারা গেছে। তিন মাস থেকে আট মাস বয়সী ২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, টিকা পাওয়ার তথ্য নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস তথ্যে অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে জনস্বাস্থ্যবিদরা মন্তব্য করেছেন।

টিকা ও ভিটামিন এ না পাওয়ায় অপুষ্ট শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাত শিশুর মৃত্যু, ১৫ মার্চ থেকে ৩৪৩টি। বিশেষজ্ঞরা অপুষ্টি ও টিকার ঘাটতিকে দায়ী করছেন।

ফরিদপুরের কামরুজ্জামান ও জান্নাতি বেগমের পাঁচ মাসের যমজ সন্তান রাইসা হামে মারা গেছে, রুমাইসা এখনও অসুস্থ। স্থানীয় হাসপাতালে পিআইসিইউ না থাকায় ঢাকায় আসতে দেরি হয়। দেশে হামে মোট ৪৩২ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।