
তাবুক থেকে জেদ্দা: এক নজরে সৌদির রাজকীয় ইফতার
সৌদি আরবে ইফতার শুরু হয় সাদামাটাভাবে, যাকে স্থানীয়রা বলেন ‘ফকুক আল-রিক’ বা রোজা ভাঙার মুহূর্ত। এক গ্লাস পানি, মদিনার আজওয়া খেজুর আর এক কাপ ‘গাহওয়া’।

সৌদি আরবে ইফতার শুরু হয় সাদামাটাভাবে, যাকে স্থানীয়রা বলেন ‘ফকুক আল-রিক’ বা রোজা ভাঙার মুহূর্ত। এক গ্লাস পানি, মদিনার আজওয়া খেজুর আর এক কাপ ‘গাহওয়া’।

ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলের প্রাচীন রীতি—লবণ দিয়ে ইফতার করা। তারা বিশ্বাস করেন, দীর্ঘ উপবাসের পর লবণ মুখে দিয়ে রোজা ভাঙা শরীরের জন্য উপকারী।

ইফতারে তারা পরিবারের সদস্য সংখ্যার চেয়ে অন্তত একটি প্লেট বেশি সাজিয়ে রাখে, যদি ইফতারের মুহূর্তে কোনো মুসাফির বা মেহমান দরজায় কড়া নাড়েন!

১৭৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের তিনটি প্রাচীন মাটির ফলক স্ক্রিপ্টকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম রান্নার বই। সেই প্রাচীন ‘খুবজ আল-আরুক’ আজও ইরাকি ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এ–বছর রমজানে নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইম স্কয়ার এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে। হাজারো মুসলিম ডিজিটাল বিলবোর্ডের আলোর নিচে দাঁড়িয়ে জামাতে তারাবি পড়েছেন।

তবুও সুদানিরা তাদের আতিথেয়তা ছাড়েনি। বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোও তাবুর সামনে ছোট করে পাটি বিছিয়ে ইফতার ভাগ করে নিচ্ছেন, যেন তা তাদের টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

শত বছরের পুরোনো প্রথা মেনে পাহাড়ের চূড়ায় আগুন জ্বালিয়ে ইফতারের সময় ঘোষণা করা হয়। আগুনের শিখা দেখে গ্রামের মানুষ বুঝতে পারে রোজা ভাঙার সময় হয়েছে।

যেখানে বিশ্বের অনেক দেশে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে, সেখানে আফগান সরকার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে দাম কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রায় এক হাজার বছর আগে, ৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রাচীন ভলগা বুলগেরিয়া অঞ্চলে ইসলাম রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হয়েছে। খ্রিষ্টধর্মের প্রসারেরও ৬৬ বছর আগে এই অঞ্চলে ইসলামের আলো পৌঁছেছে।

ইরানি সাহিত্যে রোজাকে তুলনা করা হয়েছে এমন এক প্রদীপের সঙ্গে, যা নফসের অন্ধকার দূর করে এবং এমন এক নদীর সঙ্গে, যা আত্মার সব কলুষতা ধুয়ে দেয়।

ফিলিস্তিনের ইফতার টেবিলের মধ্যমণি হলো ‘মাকলুবা’। মাংস, ভাত আর ভাজা সবজি দিয়ে রান্না করা খাবারটি পরিবেশনের সময় পাত্রটি উল্টে দেওয়া হয়। ‘মাকলুবা’ মানে উল্টানো।

শুদ্ধাচার সামাজিক নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের সর্বোত্তম নিয়ামক। নীতিনৈতিকতা, সচ্চরিত্র, সততা ও সত্যবাদিতা মানবচরিত্রের অলংকার।