
যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব, কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার দাবির মধ্যে গতকাল পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফরের কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার দাবির মধ্যে গতকাল পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফরের কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান তার আন্ত–আঞ্চলিক প্রতিরোধকৌশল এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষানীতির এক চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কোনো আস্থা নেই। তিনি জানান, ওয়াশিংটন চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হলেই কেবল আলোচনায় বসতে আগ্রহী তেহরান।

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের বিরোধিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলার পর তেহরান এই জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে। ট্রাম্প-সি চিন পিংয়ের বৈঠকে এই বিষয় আলোচিত হবে।

ইরান যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যায়সঙ্গত শর্ত দিয়েছে বলে দাবি করে তেহরান। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ইরানের শান্তিচুক্তির প্রস্তাব নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভুল তথ্য রয়েছে বলে ইরানের সূত্র দাবি করেছে। তাসনিম নিউজের সূত্র জানিয়েছে, তেহরান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক দাবি তুলেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফার প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান।

তেহরান বলছে, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। অন্যদিকে, ইরানের নতুন প্রস্তাব ট্রাম্প সম্ভবত প্রত্যাখ্যান করছেন।

তেহরান ওয়াশিংটনের মতো একই খেলা খেলছে—এই ধারণা। তা নয়। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে পরাজিত করতে চাইছে না। বরং তাদের চেয়ে বেশি সময় ধরে টিকে থাকতে, তাদের লক্ষ্যকে জটিল করে তুলতে এবং খরচ বাড়িয়ে তুলতে চাইছে।

কূটনীতির ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশৃঙ্খল আচরণের বিপরীতে তেহরানকে শান্ত ও কৌশলগতভাবে এগোতে হবে, এটি তেহরান বিশ্বাস করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়।

ওয়াশিংটনের প্রতি অনাস্থার বিষয়টি আবার তুলে ধরে ইরানের স্পিকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরান বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে আবারও লড়াই শুরু হতে পারে।