
সংস্কারে পিছু হটলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে
দেশের অর্থনীতি জটিল সময় পার করছে, তবে প্রবাসী আয় ভালো। আইএমএফের সংস্কার শর্ত থেকে পিছু হটলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে। রাজস্ব ও ব্যাংক খাতের অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর জরুরি।

দেশের অর্থনীতি জটিল সময় পার করছে, তবে প্রবাসী আয় ভালো। আইএমএফের সংস্কার শর্ত থেকে পিছু হটলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে। রাজস্ব ও ব্যাংক খাতের অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর জরুরি।

ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কার না করলে দেশকে অনেক বেশি মূল্য চুকাতে হবে বলে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সতর্ক করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো সংশোধন সম্ভব হলেও সংস্কার থেকে পিছিয়ে যাওয়া যৌক্তিক নয়। আইএমএফ কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য এগুলো জরুরি।

স্থানীয় সরকারকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের শিকল ছিন্ন করতে হবে যাতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ইচ্ছামতো বরখাস্তের চর্চা গণতান্ত্রিক নয়। স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারকালীন ২০টি অধ্যাদেশ আইনে না পরিণত হওয়ায় অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হলে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। এগুলো সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। মৌলিক সংস্কার উপেক্ষা সব দলের জন্য আত্মঘাতী। দুদকসহ অন্যান্য অধ্যাদেশ যাচাই করে অবিলম্বে আইনে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন।

উচ্চ ভ্যাট ফাঁকি, দুর্বল মনিটরিং ও সীমিত প্রশাসনিক সক্ষমতায় ডিজিটাল ইনভয়েসিং ও এআই রাজস্ব বৃদ্ধির চাবিকাঠি। বিশ্বের সফল উদাহরণ থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত লক্ষ কোটি টাকা আহরণ সম্ভব। সুপরিকল্পিত রোডম্যাপে বাস্তবায়ন জরুরি।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, সব বাড়তি খরচ ভর্তুকি নয়, সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও সংস্কারের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা সম্ভব। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ দরকার।

বৈশ্বিক অস্থিরতায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও জনগণের সম্পৃক্ততা জরুরি। ম তামিম এ নিয়ে তাঁর মতামত জানিয়েছেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধন ও খুচরা বিক্রেতার গ্রাহক তথ্য ফাঁসের ধারাবাহিকতা নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের অদৃশ্য ঝুঁকি তুলে ধরছে। এতে পরিচয় চুরি থেকে রাষ্ট্রীয় সংকট পর্যন্ত বিস্তৃত বিপদ। আইন-নীতি সত্ত্বেও প্রয়োগের দুর্বলতা সমস্যা বাড়াচ্ছে।

মৃত্যুর মিছিল আমরা সড়কে দেখছি, রেলে দেখছি, নৌপথেও দেখছি, অর্থাৎ পুরো পরিবহন খাতে শত শত ঝুঁকি। এ অবস্থায় হতাহতের সংখ্যা কমবে না।

অতীতে শিক্ষার উন্নয়নে বহু লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কিন্তু নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও করপোরেট খাতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।