
ট্রাম্পের হামলা স্থগিত করায় তেলের দামে বড় পতন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।

ইরানের বিরুদ্ধেও ‘টাকো ট্রাম্প’ একই রকম হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেবেন যে ইরানি সভ্যতা বলে কিছু থাকবে না।

ইরান হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা দিয়েছে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে বিজয় বললেও ইরান ‘মহান বিজয়’ দাবি করছে। দুই পক্ষের প্রস্তাবে বড় ফারাক থাকায় আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

ইরানের অনুরোধে হুতিরা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে লোহিত সাগর ও বাব আল–মানদেব প্রণালিতে মার্কিন রণতরির চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বড় অভিযানকে মন্থর করাই তাদের লক্ষ্য। এছাড়া সৌদি পাইপলাইন নিয়ে নতুন সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর টেলিফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে।

হামলার উদ্দেশ্য ছিল ‘ইরান থেকে আসন্ন হুমকি মুক্ত করে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা।’ তবে হামলার আগে ইরান সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করার দ্বারপ্রান্তে ছিল।

ইসলামাবাদে ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনার জন্য ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা বাতিলসহ কঠোর শর্ত রয়েছে। তেহরান এছাড়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও সম্পদ ফেরতেরও দাবি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের মধ্যে আজ রোববার প্রাথমিক চুক্তি সই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

১৯৫৬ সালে সুয়েজ খালের জাতীয়করণ ছিল তেমনই এক সন্ধিক্ষণ, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। এই সংকট ব্রিটেনের আর্থিক দুর্বলতাকে নগ্ন করে দিয়েছিল। মার্কিন চাপের মুখে পাউন্ড স্টার্লিংয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে তার অবস্থান দ্রুত ক্ষয়ে গিয়েছিল। আর শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী হাত গুটিয়ে আনা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে হরমুজ নিয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়।

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি, পর্যটন ও আর্থিক খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কাতার ও কুয়েত।