
ট্রাম্প কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান যুদ্ধে টেনে নিয়েছিলেন
ইরানে অভিযানের জন্য টানা চাপ দিয়ে আসছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তারপরই যুদ্ধে নামলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানে অভিযানের জন্য টানা চাপ দিয়ে আসছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তারপরই যুদ্ধে নামলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যা বিশ্বনেতারা স্বাগত জানিয়েছেন। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা শুরু হবে শুক্রবার। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধবিরতির পর সেনাদের গুলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, তবে শর্ত না মানলে লড়াই চলবে। ১০ এপ্রিল শুক্রবার ইসলামাবাদে ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী খোলার উপর নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি।

ইসলামাবাদে ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনার জন্য ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা বাতিলসহ কঠোর শর্ত রয়েছে। তেহরান এছাড়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও সম্পদ ফেরতেরও দাবি জানিয়েছে।

ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ কি ইরানে ধর্মতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটাতে পারবে? ইতিহাস দেখায়, বোমা ফেলে জনগণ শাসকের বিরুদ্ধে নয়, বরং বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। তেহরানের মানুষও একই স্থৈর্য দেখাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টা ইস্টার্ন টাইম পর্যন্ত চূড়ান্ত সময় দিয়েছেন। রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকির ভাষা ত্যাগ করে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেল সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো ব্যাহত হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে কর্মী রপ্তানি, নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও মালয়েশিয়ায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।

ইরানে দুটি যুদ্ধবিমান হারিয়ে আরও চাপে ট্রাম্প

ইরান দাবি করেছে, এক দিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান—এফ-১৫ই এবং এ-১০ ওয়ারথগ—ভূপাতিত করেছে তার নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। এতে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ধ্বংস মার্কিন উড়োজাহাজের সংখ্যা সাতে পৌঁছেছে। যৌথ সামরিক কমান্ড এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ বলে অভিহিত করেছে।

নেতানিয়াহুর চেঙ্গিস খানের মতো আগ্রাসী নীতি ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে, যা জেরুজালেমের পবিত্র স্থানে ক্যাথলিক প্যাট্রিয়ার্ককে আটকানো থেকে গাজার ধ্বংস পর্যন্ত বিস্তৃত। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে এই দম্ভ শেষ পর্যন্ত নৈতিক পরাজয়ই নিয়ে আসবে বলে মত প্রকাশ করেছেন লেখক। ঐতিহাসিক তুলনা করে তাঁরা সতর্ক করেছেন এই পথের পরিণতি।

ইরানি বাহিনী একই দিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান—এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল এবং এ-১০ ওয়ারথগ—ভূপাতিত করেছে। ইরানের ‘মজিদ’ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করে অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড সেন্সর দিয়ে এই আঘাত হানা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম মাসে বাংলাদেশে ১১টি জাহাজে ৩ লাখ ২৭ হাজার টনের বেশি জ্বালানি তেল এসেছে। ভারত থেকে পাইপলাইনে ২২ হাজার টন ডিজেল পাওয়া গেছে। নির্ধারিত ৮টি জাহাজ না পৌঁছানোর কারণে সরবরাহে চাপ পড়েছে।